
নাম অথেলো কর্মকার তাঁর মা-পরিবাবসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে ঢাকা থেকে রাজশাহী আসবেন। তাই অনলাইনেই গত মঙ্গলবারের (৮ ফেব্রুয়াারি) বনলতা ট্রেনে ঢাকা টু রাজশাহীর সিগ্ধা চেয়ারে চারটি ট্রেনের টিকিট কেটেছিলেন। তিনি এই টিকিট ফেরত দেননি। কিন্তু কেউ একজন চারটি টিকিট কাউন্টারে ফেরত দিয়েছেন। অথেলো বলেন, কীভাবে এমন হলো বুঝতে পারলাম না। অথচ অনলাইলে চারটি টিকিট কাটতে ২৯০০ টাকা লেগেছে। পরে ট্রেনে ওঠার পর দেখি আমাদের সিটে অন্য যাত্রী বসে আছে। কর্তব্যরত টিটিকে বিষয়টি জানানোর পরও কোনো সুরাহা না করে জরিমানাসহ আমাদেরকে মোট ৫ হাজার টাকার টিকিট কেটে রাজশাহীতে আসতে হয়েছে।
অথেলো কর্মকার জানান, মঙ্গলবারের ঢাকা টু রাজশাহীর ‘ঘ’ বগির ৪৫, ৪৭, ৪৯ ও ৫৩ নম্বর আসনের টিকিট কেটেছিলাম। ট্রেনে উঠেই তিনি এমন বিড়ম্বনা ও জরিমানার শিকার হন। এটি কীভাবে হলো কর্তৃপক্ষের অবশ্যই খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। রেলওয়েরই কেউ এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন।
শুধু অথেলো কর্মকার নয়; মঙ্গলবারের বনলতা ট্রেনে ঢাকা থেকে রাজশাহী ফিরতে অনেককে এমন বিড়ম্বনার শিকার হয়েছে অনেকে। এমন আরেকজন সোহেল রানা। তার বাড়ি রাজশাহীতে। মঙ্গলবার দুপুরে তাঁর মামা মো. নাদিম বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনে পরিবার নিয়ে ঢাকা থেকে রাজশাহী আসছিলেন। নাদিম দেখেছেন, তাঁদের আসনের টিকিটগুলো ফেরত দেওয়ার কারণে আসনগুলোতে অন্য যাত্রীরা বসেছিলেন। ট্রেন থেকেই নাদিম জানিয়েছেন, শুধু তাদের টিকিটের ক্ষেত্রেই এমন ঘটনা নয়, আরও কয়েকজনের সঙ্গেই এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ট্রেনে তিনি এ রকম আরও চারজনকে দেখেছেন।
সোহেল জানান, তার মামার পরিবারের জন্য তিনি মঙ্গলবারের ঢাকা-রাজশাহী বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনে ‘গ’ বগির ৩৯, ৪১, ৪৩ ও ৫১ নম্বর আসনের টিকিট কেটেছিলেন। ২ হাজার ৯০০ টাকায় গত ৪ ফেব্রুয়ারি সকালে তিনি এসি কোচের এসব টিকিট কাটেন। ৫ ফেব্রুয়ারি সোহেল তার এক কর্মচারীকে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টারে টিকিট প্রিন্ট করতে পাঠান। কিন্তু তখন টিকিট প্রিন্ট হচ্ছিল না। তাই পরদিন ডাকা হয়। পরেরদিন আবার গেলেও টিকিট প্রিন্ট হয়নি।
মঙ্গলবার সোহেলের মামা নাদিম কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে জানতে পারেন, তাদের টিকিটগুলো রিফান্ড করে নেওয়া হয়েছে। তখন পরিচিত এক রেল কর্মকর্তা নাদিমের পরিবারকে ওই ট্রেনে রাজশাহী আসার সুযোগ করে দেন। নাদিম ট্রেনে উঠে দেখেন, ৩৯, ৪১, ৪৩ ও ৫১ নম্বর আসনে অন্য যাত্রীরা বসে আছেন। তারা কাউন্টার থেকে স্বাভাবিকভাবেই টিকিট কেটেছেন। নাদিম জানিয়েছেন, ট্রেনে তিনি আরও কয়েকজনের টিকিট নিয়ে এ ধরনের সমস্যা দেখেছেন। তারা কেউ টিকিট ফেরত দেননি। কিন্তু ফেরত হয়ে গেছে।
সোহেল রানা বলেন, ট্রেনের টিকিট নিয়ে কালোবাজারি হয়। কিন্তু এ ধরনের সমস্যা আগে কখনও দেখিনি। এটা রেলেরই কেউ না করলে অন্য কেউ করতে পারবে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়য়ে রাজশাহী জানতে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের চিফ কমার্সিয়াল অফিসার (সিসিএম) মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ ভূঁঞা বলেন, এ রকম ঘটনা তিনিও কখনও শোনেননি। তিনি এই প্রতিবেদকের কাছ থেকে আসন নম্বরগুলো নেন। জানান, টিকিট ছাড়া রিফান্ড করা যায় না। চলন্ত ট্রেনেই তিনি লোক পাঠিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।
পশ্চিম রেলের মহাব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদারও বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা আমি আগে কখনো শুনিনি। আমি প্রকৌশল বিভাগের লোক। এ ধরনের ঘটনা নিয়ে আমার কোন অভিজ্ঞতা নেই। তাও যাত্রীর টিকিট কীভাবে রিফান্ড হলো সেটা আমি দেখার চেষ্টা করব।’
