ঢাকা
২২ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
এক মন্ত্রণালয়ে একাধিক প্রতিমন্ত্রী—আইনে কি অনুমোদন আছে? মুহুরী নদীর পানি বাড়ছে হু হু করে: বাঁধ ভাঙার আশঙ্কায় নির্ঘুম ফেনীবাসী ​ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হচ্ছে যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা নুরুল ইসলামকে ঢাকার পাশে ঘন ঘন ভূমিকম্প: বড় বিপদের আগাম বার্তা যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন সিলেটের মোহাম্মদ মাকসুদ আহমেদ তাহিরপুরে হত্যা করে লাশ গুমের ঘটনায় পলাতক আসামি নারায়ণগঞ্জে গ্রেফতার বিদ্যুৎ সাশ্রয় কর্মসূচি: ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিরল সূর্যগ্রহণে ইউরোপে উন্মাদনা হবিগঞ্জ কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় বিশাল ক্ষতিপূরণ পেতে যাচ্ছে ইরান

দখলে দুষণে নাখাল পাবনার ইছামতী

বাংলাদেশ মিডিয়া প্রতিবেদক
মঙ্গলবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২   ২৫৪ বার পঠিত
দখলে দুষণে নাখাল পাবনার ইছামতী

স্বাধীনতার ৫০ বছরে রাজধানী ঢাকা যেমন বড় হয়েছে, তেমনি সম্প্রসারিত হয়েছে দেশের পুরোনো শহরগুলোও। বড় শহরের পরিবর্তন ও বাসযোগ্যতা নিয়ে ধারাবাহিক আয়োজনে এবার পাবনা। ইছামতী নদীকে বুকে নিয়ে গড়ে ওঠা পাবনা শহরের বিস্তার পরবর্তী সময়ে ঘটেছে একটি সড়ককে কেন্দ্র করে। সম্প্রতি পাবনার আবদুল হামিদ সড়ক এলাকায় একদিকে পদ্মা, অন্যদিকে যমুনা। মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে ইছামতী। এই নদীর দুই তীরজুড়ে গড়ে ওঠা প্রাচীন জনপদ পাবনা। প্রবীণ ব্যক্তিদের মতে, এ শহরের বাসিন্দারা খুব আন্তরিক-সংস্কৃতিমনা। ধর্মীয় সম্প্রীতি আছে মানুষে মানুষে। একসময় পাড়ায় পাড়ায় খেলাধুলা ও সংস্কৃতির চর্চা হতো। বাড়িতে বাড়িতে ছিল ফুলের বাগান। তাই হয়তো এ ভূমির সন্তান কবি বন্দে আলী মিয়া ।

প্রবীণ ব্যক্তিরা বলছেন, কবির দেখা ছোট গ্রাম এখন আর ছোট নেই, হয়েছে বড় শহর। হোসিয়ারি শিল্পখ্যাত শহরটি পরিণত হয়েছে শিক্ষানগরে। তবে কবির দেখা, ‘মাঠ ভরা ধান তার জল ভরা দীঘি’ আর নেই। ষাটের দশকে যে শহরে মাত্র একটি চারতলা ভবন ছিল, সে শহর এখন শত শত ভবনে ছেয়ে গেছে। শহরে ৬ থেকে ১৫ তলা ভবনই আছে ২ শতাধিক। পুকুরগুলো ভরাট করে তৈরি করা হয়েছে বাড়ি। খেলার মাঠ ফুঁড়ে দাঁড়িয়েছে বিশালকায় সব ইমারত। দখল-দূষণে মরা খালে পরিণত হয়েছে ইছামতী। একটু বৃষ্টিতেই হচ্ছে জলাবদ্ধতা। নেই কোনো পার্ক। প্রতিদিন যানজটে নাকাল শহরবাসী। এরপরও এ শহরে শান্তির পরশ আছে বলে মনে করেন স্থানীয় লোকজন।পাবনার শহরের প্রধান সমস্যা এখন যানজট। ছুটির দিন বাদে প্রতিদিন দুপুরে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় শহরের প্রধান রাস্তা আবদুল হামিদ সড়কে পাবনার শহরের প্রধান সমস্যা এখন যানজট। ছুটির দিন বাদে প্রতিদিন দুপুরে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় শহরের প্রধান রাস্তা আবদুল হামিদ সড়কে।
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের চেয়ারম্যান এবং জেলা প্রশাসনের নগর উন্নয়ন কমিটির সদস্য মো. সোহেল রানা প্রথম আলোকে বলেন, শহরের মূল সমস্যা অপরিকল্পিত নগরায়ণ। পর্যাপ্ত খেলার মাঠ, শিশুপার্ক ও অবকাশযাপনের স্থান নেই। এতে শহর ঘিঞ্জি হচ্ছে, যানজট ও অগ্নিঝুঁকি বাড়ছে এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে।

গঙ্গার ‘পবনী’ নামের পূর্বগামিনী ধারা থেকে ‘পাবনা’ নামের উৎপত্তি—জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে এমনটিই লেখা। আবার জনশ্রুতি আছে, এ এলাকায় ‘পবন’ নামে এক দস্যু ছিল। তার নাম থেকেই এসেছে পাবনা। তবে ঐতিহাসিকদের মতে, খ্রিষ্টীয় একাদশ শতকে পাল নৃপতি রামপালের শাসনকালে প্রথম ‘পাদুম্বা’ জনপদের সাক্ষাৎ মেলে। এ ছাড়া গঙ্গার উত্তর দিকে পুণ্ড্রবর্ধনের জনপদ ছিল। এই পাদুম্বা অথবা পুণ্ড্রবর্ধন বিভিন্নভাবে উচ্চারিত হতে হতে পাবনা হয়েছে।

তবে নাম যেভাবেই আসুক, এ শহর শত বছরের ঐতিহ্যে মোড়া। জেলা হিসেবে পাবনার প্রতিষ্ঠা ১৮১৮ সালের ১৬ অক্টোবর। ১৮৭৬ সালে পাবনা পৌরসভা হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে। পৌরসভার আয়তন ২৭ দশমিক ২০ বর্গকিলোমিটার। বর্তমান লোকসংখ্যা ২ লাখ ২০ হাজার (২০১৯ সালের হিসাব)। লোকসংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে শহরটিতে বেড়েছে বহু স্থাপনা।

পাবনাকে বলা হয় এক সড়কের শহর। মূলত মধ্যশহরের আবদুল হামিদ সড়ক ঘিরেই শহরের মূল কাঠামো তৈরি হয়েছে। আর এ সড়কই এখন যানজটের কেন্দ্র। নিয়ন্ত্রণহীনভাবে যানবাহন বৃদ্ধি, পার্কিং–ব্যবস্থা ছাড়াই বড় বড় ইমারত তৈরি ও ফুটপাত দখল—এই তিন কারণে যানজট তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পাবনা পৌরসভা সূত্র জানায়, ছোট্ট এ শহরে পৌরসভার লাইসেন্সধারী রিকশা রয়েছে প্রায় নয় হাজার। এর বাইরে লাইসেন্সবিহীন রিকশা আছে আরও প্রায় ছয় হাজার। গত কয়েক বছরে নতুন করে যোগ হয়েছে সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত ১০ হাজারের মতো অটোরিকশা। এ ছাড়া বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন রয়েছে আরও প্রায় ১০ হাজার।

জেলা পুলিশের ট্রাফিক শাখার শহর ও যানবাহন পরিদর্শক (টিআই) আবু হেনা মোস্তাফা নোমান জানান, পর্যাপ্ত পার্কিং–ব্যবস্থা না থাকা, ব্যস্ত সড়কের ফুটপাত দখল এবং ব্যাটারি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন বেড়ে যাওয়ায় যানজট তৈরি হচ্ছে।

শহরের মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত ইছামতী নদীকে বলা হতো পাবনার প্রাণ। শোনা যায়, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিলাইদহ থেকে বহুবার পানসি ভাসিয়ে ইছামতীতে ঘুরেছেন। ইছামতীকে কেন্দ্র করেই প্রসারিত হয়েছে জেলার ব্যবসা–বাণিজ্য। স্বাধীনতার আগ পর্যন্ত নদীটির প্রাণ ছিল। এরপর দিনে দিনে নদীর দুই পাড় দখল হতে শুরু করে। উৎসমুখ আটকে বন্ধ হয়ে যায় পানিপ্রবাহ। এখন নদীটি মরা খালে পরিণত হয়েছে। জমেছে ময়লা–আবর্জনার স্তূপ। বাড়ছে মশার উপদ্রব, দূষিত হচ্ছে শহরের বাতাস।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শহরের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে নদীটির দখলদার উচ্ছেদ ও খননের দাবিতে আন্দোলন করছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালে নদীর দখলদার উচ্ছেদের জন্য ২ কোটি ৭৯ লাখ ও খননের জন্য ৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা বরাদ্দ আসে। ২০১৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর নদীর উৎসমুখ থেকে লাইব্রেরি বাজার সেতু পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে খননকাজ শুরু করা হয়। এ সময় পুরো নদীর ৫ শতাংশ এলাকায় উচ্ছেদ ও ১৮ শতাংশের খননকাজ করা হয়। পরে আইনি জটিলতায় আবারও উচ্ছেদ ও খননকাজ বন্ধ হয়ে যায়।

ইছামতী নদী উদ্ধার আন্দোলন কমিটির সভাপতি এস এম মাহবুব আলম জানান, ইছামতী নদীর দখলদার উচ্ছেদ ও খননকাজ এখন শহরবাসীর প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

 

Facebook Comments Box
Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa