
শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড, শিক্ষা ছাড়া কোন জাতি উন্নতি করতে পারে না। যে জাতি যত শিক্ষিত সে জাতি তত উন্নত। শিক্ষার্থীরা দেশের ভবিষ্যৎ। এ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যেভাবে গড়ে তোলা হবে সেভাবে তারা সফল হবেন। তাই তো তারা যে কাজ মনযোগ দিয়ে করেন সে কাজে সাফল্য অর্জন করতে পারেন। আর করোনা ভাইরাসের কারণে লকডাউন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ছুটি থাকায় বেশ সুবিধা পেয়েছেন বাগান করার কাজে। বাজার না করে নিজের বাগানের সবজি, ফল দিয়ে দিব্বি পার করে দিয়েছেন লকডাউন ও করোনাকালিন সময়। অন্যদের সাহায্য করতে পরেছেন বলে তারা জানান।
এমনি প্রমান করতে পেরেছেন এক আওয়ামীলীগ নেতা দাম্পতি এসএম হাবিবুর রহমান ও মোসাঃ নাসিমা রহমান। এসএম হাবিবুর রহমান রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভার বিশিষ্ট তেল বীজ ব্যবসায়ী ও ২ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন দীর্ঘদিন থেকে। আর তার স্ত্রী নাসিমা রহমান একজন গৃহিণী।
তারা ২০২০ ইং সালের শেষে থেকে রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের রাজশাহী চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহানগরী সড়কের পাশে মহিশালবাড়ী বাজারে নিজ বাড়ী ও মার্কেটের ছাঁদে ফলজ, সবজি বাগান ও ফুলের বাগান করেছেন।
স্বল্প সময়ে বেশ সাফল্য অর্জন করেছেন। তাদের দেখা দেখি অনেকে ছাঁদে ফলজ, সবজি করার দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। যে আসে এসএম হাবিবুর রহমান ও ও নাসিমা রহমান নিকট তাকেই এক কাজটি করার জন্য সুপরামর্শ প্রদান করে থাকেন।
তাদের বাগানে পিয়ারা, আঙ্গুর, বেদানা, ডালিম, লেবু, আমড়া, থাই বাতাবী লেবু, কমলা লেবু, থাই পিয়ারা, জামরুল, ড্রাগন, গোলজাম, আম, জাম, তেতুল, কমলা, লিচু, মালটাসহ নানা ধরনের ফলজ গাছ রয়েছে। অনেক গাছে লোভনীয় রসালো ফল ধরে আছে।
অন্য দিকে সবজি বাগানে লাল শাক, পুই শাক, লাউ, করলা, শিম, ফুল কপি, বাঁধা কপি, কুমড়া শাক, লাউ, বিভিন্ন ধরণের মরিচ, বেগুন, ধনে পাতা, প্রভূতি। কিছু টবে ফুলও রয়েছে বিভিন্ন প্রকার কাঁটা মুকুট, ডালিয়া, বেলী, গাঁদা, কাগজ ফুল, পাথর কুচি, পথলিকা, ঘাস পুল, বিভিন্ন ধরনের, বিভিন্ন ধরণের গোলাপ, পাতা বাহার, ডালিয়া, রজনী গন্ধা, প্রভূতি ফুল তাদের ছাদে শোভা পাচ্ছে। তারা আর্ডার দিয়ে ছোট বড় অনেক টব নির্মান করেছে ওই সব টবে উর্বর জাতের মাটি সংগ্রহ করে এই সব ফলজ, সবজি, ফুল গাছ লাগিয়েছেন।
এ ধরণের উদ্যোগের ফলে তারা যেমন বিষ মুক্ত, টাটকা ফল ও সবজি পাচ্ছে, অন্যদের সাহায্য করতে পারছেন। সে সাথে পরিবারের সদস্যরা ওই সব গাছ, ফুল, সবজি বাগানে নিয়িমত কাজ করে একদিকে যেমন আনন্দ পাচ্ছেন তেমনী অন্য দিকে কাজ করার কারণে তাদের অসুখ কম হচ্ছে। কলেজ, স্কুল, বিশ্ব বিদ্যালয় করোনার কারনে বন্ধ থাকায় পরিবারের অন্য সদস্যরা অবসর সময়ে এ বাগানে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে।
মহিশালবাড়ী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনির ছাত্রী নাবিলা রহমান নিশি বলেন, আমাদের ছাঁদ বাগানে কাজ করতে খুব ভাল লাগে। প্রতিদিন ২/৩ বার ছাঁদ বাগানে যায় বেশ আনন্দ পায়।
কেন হাঠাৎ করে এ ধরণের বাঁগান করলেন? এমন প্রশ্ন করা হলে এসএম হাবিবুর রহমান বলেন, আমার স্ত্রী নাসিমা রহমান আমার মেয়ে হামিদা খাতুন হাসি বাংলা বিষয়ে এম. এ পাস করেছে, মেজ মেয়ে নুসরাত জাহান উর্মি সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী, ছোট মেয়ে মহিশালবাড়ী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনির ছাত্রী মোসাঃ নাবিলা রহমান এক মাত্র ছেলে মোঃ হাসিবুর রহমান অপু সবাই মহিশালবাড়ী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সিনিয়র বাগান দেখে তারা মুগ্ধ হয়ে আমাকে বাগান করার জন্য বার বার অনুরোধ জানান। আমি থামতে না পেয়ে তাদেরকে সাথে নিয়ে পুন:রায় প্রধান শিক্ষক সাহেবের ছাঁদ দেখতে যায় এবং আমাকে খুব ভাল লাগে। বাড়ী এসে বাড়ীর সিঁডি করি, দোকান ও বাড়ী ছাঁদ নির্মান করি। কিছুদিন পর রর্ড, সিমেন্ট, তাঁরের জালি ও খোয়া দিয়ে পাট তৈরী, প্রেমতলী ও রাজশাহী টব ক্রয় করে নিয়ে আসি। দূর থেকে টলিতে করে মাটি নিয়ে এসে, সার, কীট নাশক দিয়ে মাটি প্রস্তুত করে এবং ছাঁদে মাটি উঠিয়ে টব ভর্তি করি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নাচোল প্রভূতি এলাকা থেকে ফলজ, সবজি, ফুল গাছ সংগ্রহ করে বাগান করি। এতে বাগান করতে আমার ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তিনি আরও বলেন ইচ্ছা থাকলে উপায় হয়। মানুষ অভ্যাসের দাস।
প্রতিদিন সকালে এবং বিকালে এমন কি রাত্রে ১ থেকে ২ ঘন্টা আমরা কাজ করে থাকি। ভাল কিছু পেতে হলে এ ধরণের পরিশ্রম তো করতে হবেই।
আমাদের যে গাছটিতে যে মরিচ ধরে আছে এটা একটা ব্যতিক্রমধর্মী মরিচ। যে দিন থেকে গাছে মরিচ ধরা শুরু করেছে সে দিন থেকে আমরা বাজার থেকে কাঁচা মরিচ কিনি নাই। মরিচটি সুগন্ধযুক্ত, অত্যাধিক ঝাল, তরকারিতে ২/৩টি মরিচ দিলেই যথেষ্ঠ।
এখানে ট্যাপ সিষ্টেম পানির ব্যবস্থা করা আছে যখন পানির প্রয়োজন হয় তখন পানে দেয়া যায়। কোন অসুবিধা হয়না। পরিবারের চাহিদা মেটানোর পর আত্নীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের দেয়া হয়। ভবিষ্যতে আরও বিভিন্ন ধরণের গাছ রোপন করবো, বাগানের পরিধি বড় হবে ইনসাল্লাহ।
