
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ হামের উপসর্গ নিয়ে পাঁচ শিশুর ভর্তি হওয়ায় স্বাস্থ্য বিভাগে বাড়তি সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। শিশুদের চিকিৎসায় ইতোমধ্যে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুর পর্যন্ত এই পাঁচ শিশুর ভর্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান। তিনি জানান, ভর্তি শিশুদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য সংক্রমণ মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহ থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুদের হাসপাতালে আসা শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে পাঁচজন শিশুকে ভর্তি করা হয়। ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে রয়েছে—লালমনিরহাট সদর উপজেলার আট মাস বয়সী আমাতুল্লাহ জান্নাত, দিনাজপুরের পার্বতীপুরের সাত মাস বয়সী প্রজ্ঞা রায়, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের দুই বছর বয়সী আরাফাত এবং রংপুর নগরীর তাজহাট এলাকার নয় মাস বয়সী সাইয়েম আহম্মেদসহ আরও একজন শিশু।
চিকিৎসকরা জানান, এসব শিশুর শরীরে জ্বর, ফুসকুড়ি, কাশি ও চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো হামের সাধারণ উপসর্গ দেখা গেছে। তবে নিশ্চিতভাবে তারা হামে আক্রান্ত কি না, তা পরীক্ষার রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না। এজন্য আক্রান্তদের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
রংপুরের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. ফিরোজ জানান, এখন পর্যন্ত মোট ১৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলেও কারও শরীরে হামের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তবুও সতর্কতা হিসেবে চিকিৎসা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “হাম একটি সংক্রামক রোগ হলেও সময়মতো চিকিৎসা নিলে এটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য। তাই আতঙ্কিত না হয়ে উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।”
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৌসুম পরিবর্তনের সময় শিশুদের মধ্যে ভাইরাল সংক্রমণ বাড়ে, যার সঙ্গে হামের উপসর্গ মিল থাকতে পারে। এ কারণে বিভ্রান্ত না হয়ে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন তারা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, রোগীর সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে গেলে তা সামাল দিতে অতিরিক্ত শয্যা ও চিকিৎসা সরঞ্জামের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। আইসোলেশন ওয়ার্ডে বিশেষ নজরদারির পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীদেরও সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অভিভাবকদের উদ্দেশে চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন, শিশুদের জ্বর বা শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে। একই সঙ্গে শিশুকে ভিড়পূর্ণ স্থান থেকে দূরে রাখা এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, হামের সম্ভাব্য ঝুঁকি মাথায় রেখে রংপুরের স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
