
সরকারি কেনাকাটার অনলাইন ব্যবস্থা ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে দোহাটেক নিউ মিডিয়ার হাতে থাকায় এ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
২০১০ সালে ই-জিপি চালুর সময় থেকেই সিস্টেমটি পরিচালনার দায়িত্ব পায় দোহাটেক নিউ মিডিয়া।
এরপর বিভিন্ন সময়ে বিকল্প প্রতিষ্ঠান না থাকা এবং আইনের ‘বিশেষ পরিস্থিতি’ সংক্রান্ত বিধানের আওতায় একই প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে ওপেন টেন্ডারের পরিবর্তে সিঙ্গেল সোর্সিং পদ্ধতিতে চার মাসের জন্য ই-জিপি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজও দোহাটেককে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
একই সঙ্গে ই-জিপির নতুন প্রকল্পের দায়িত্বও প্রতিষ্ঠানটিকে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পরিচালিত একটি নিরীক্ষায় ই-জিপি ব্যবস্থায় তথ্যনিরাপত্তা ও ডেটা ব্যাকআপ নিয়ে কিছু ঝুঁকির কথা উঠে এসেছে।
নিরীক্ষা প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ডেটা ব্যাকআপ ও তথ্যনিরাপত্তা নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ না করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ জাকারিয়া স্বপন বলেন, কোনো সফটওয়্যার তৈরি ও পরিচালনার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ একটি প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকলে সিস্টেমে অননুমোদিত পরিবর্তনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তাঁর মতে, শুধু ব্যাকআপ থাকলেই এ ধরনের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয় না; ব্যাকআপ ব্যবস্থাপনাতেও স্বাধীন নিয়ন্ত্রণ ও নিরীক্ষা থাকা প্রয়োজন।
ই-জিপির সরকারি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (বিপিপিএ) জনবল সংকট নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের একটি ভবন থেকে ২৪ জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে সংস্থাটির কার্যক্রম পরিচালিত হলেও একই কার্যালয়ে দোহাটেকের ৭৭ জন কর্মী কাজ করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ডিজিটাল ব্যবস্থা দীর্ঘদিন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল থাকা উদ্বেগের বিষয়।
এ ধরনের ব্যবস্থা সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার উদ্যোগ অনেক আগেই নেওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বারবার দোহাটেককে কাজ দেওয়ার বিষয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকী বলেন, আগের সরকারের সময়ে নেওয়া অনেক সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতা রয়েছে।
ই-জিপির মতো প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা রাতারাতি অন্য প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
দোহাটেকের সঙ্গে চার মাসের চুক্তির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলমান কার্যক্রম সচল রেখেই প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে ই-জিপি পরিচালনার দায়িত্ব আবারও দোহাটেক নিউ মিডিয়াকে দেওয়ার নথি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর দপ্তরে জমা পড়েছে বলে জানা গেছে।
বর্তমানে নথিটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
