
রাজশাহীতে তিন কেজি পচা পেঁয়াজ না নিলে সে গ্রাহক পাবে না সাশ্রয়ী মূল্যের টিসিবি পণ্য। এমনই চিত্র দেখা গেছে রাজশাহীর টিসিবি পণ্য বিক্রির ট্রাকগুলোতে।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার রাজশাহী মহানগরীর সাগর পাড়া বটতলা মোড়ে রাস্তায় লাইন ধরে দাঁড়িয়ে প্রায় দুই শতাধিক নারী-পুরুষ। দুটি লাইনে ভাগ হয়ে তারা ছোট ছোট বাজারের ব্যাগ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। কেউ কেউ বসেও পড়েছেন লাইনের মধ্যেই।
সাগর পাড়ার এই স্থানে সকাল নয়টায় টিসিবির নায্যমূল্যের পণ্য বিক্রির ট্রাক যাওয়ার কথা থাকলেও তার সময়ের আগ থেকেই অনেকেই ওই স্থানে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে শুরু করেন ক্রেতারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বেলা সাড়ে ১২টার দিকে গিয়ে পৌঁছে ওই ট্রাকটি। এর পর প্রতিজন ক্রেতার কাছে চিনি ২ কেজি, ডাল ২ কেজি, তেল ২ লিটার ও ৩০ টাকা কেজি দড়ে ৩ থেকে ৫ কেজি পচা পেঁয়াজ বাধ্যতা মূলক। পচা পেঁয়াজ না নিলে মিলছেনা টিসিবির অন্য পণ্য।
টিসিবির পণ্য কিনতে আসা দবির উদ্দিন নামের এক ক্রেতা জানান, ‘‘তেলের দাম বাজারে খুব বেশি। তাই টিসিবির সোয়াবিন নিতে এসে তিন কেজি পচা পেঁয়াজ জোর করে দেয়া হলো। বাজারে ভালো মানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা দরে। অথচ টিসিবির পচা দুর্গন্ধযুক্ত পেয়াজ কিনতে হলো ৩০ টাকা কেজি দরে। তেলের দাম কম পাওয়ার আশায় এসে এখন দেখছি দুই ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকাটাই লোকসান হলো।’’
টিসিবির পণ্য কিনতে আসা আমেনা বেগম আরও একজন বলেন, ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে পচা পেঁয়াজ কিনেবাড়িতে যেতে হচ্ছে। তেল আর চিনির দাম কম থাকায় আমরা আসি। কিন্তু পচা পেয়াঁজ দিয়ে কি করবো?’
টিসিবির ডিলার সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পেঁয়াজের জন্য আমাদের ডিও করতে বাধ্য করা হয়। পচা পেঁয়াজই আমরা পেয়েছি। এখন ক্রেতারা না নিলে এগুলো কি করবো। তাই বাধ্য করা হচ্ছে কিনতে।’
টিসিবির রাজশাহী আঞ্চলিক কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, ‘বাধ্যতামূলক কোনো পণ্যই বিক্রির নির্দেশ দেয়া হয়নি। কিন্তু ডিলাররা কেন বাধ্যতামূলক বিক্রি করছেন খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিনি বলেন, মঙ্গলবারের বরাদ্দে পেঁয়াজ ছিলনা। বুধবার ট্রাকে পেঁয়াজ দেয়া হয়। তবে পচা পেঁয়াজ কোথা থেকে গেল সেটিও খোঁজ নেয়া হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
জানা গেছে, রাজশাহীতে গতকাল ৫টি পয়েন্টে টিসিবির পণ্য বিক্রি করা হয়। সবকটি স্থানেই এভাবে পচা পেঁয়াজ কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে ক্রেতাদের। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে ক্রেতাদের মাঝে।
