ঢাকা
২১ জুন ২০২৬
সর্বশেষ
Advertise with us

“ইরানের নতুন ঘোষণা: বন্ধ হতে পারে হরমুজ প্রণালী”

বাংলাদেশ মিডিয়া প্রতিবেদক
শনিবার, ২০ জুন ২০২৬   ৪২ বার পঠিত
“ইরানের নতুন ঘোষণা: বন্ধ হতে পারে হরমুজ প্রণালী”

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৩২ জন নিহত হওয়ার পর ইরান ও যু্ক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া সমঝোতা ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলার জেরে হরমুজ প্রণালি আবার বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।

তেহরানের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যে চুক্তি হয়েছে, এ হামলা তা লঙ্ঘনের শামিল।

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে প্রচারিত বিবৃতিতে দেশটির সামরিক বাহিনীর শীর্ষ যৌথ কমান্ডের কেন্দ্রীয় সদরদপ্তর খাতাম আল-আনবিয়া শনিবার বলেছে, “হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকবে।

“এটি শত্রুপক্ষের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জবাবে নেওয়া প্রথম পদক্ষেপ। আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে, শত্রুপক্ষকে তাদের অঙ্গীকার পালনে বাধ্য করতে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

তারা আরও বলেছে, “যুদ্ধ সমাপ্তি সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের প্রথম অনুচ্ছেদের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং দক্ষিণ লেবাননে জায়নবাদী শাসকদের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির অবিরাম ও নিরলস লঙ্ঘনের ফলে ঐ অঞ্চলের লাখ লাখ নিরপরাধ মানুষের নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও বাস্তুচুতির প্রতিক্রিয়ায় আর পাশাপাশি দক্ষিণ লেবানন থেকে দখলদার জায়নবাদী বাহিনীর প্রত্যাহারের ব্যর্থতা বিবেচনায় ঘোষণা করা হচ্ছে যে হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে।”

ইরান ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধের এই ঘোষণা দেওয়ার আগে বিশ্বের তেল-গ্যাস সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের শর্ত ঘোষণা করেছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার তিন দিন পর তারা এ ঘোষণা দিয়েছিল।

ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম বলেছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক ১৮ জুন, ২০২৬ এর প্রথম মিনিটে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মাধ্যমে কোনো আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি ছাড়াই একযোগে ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় স্বাক্ষরিত হয়।

কয়েক সপ্তাহব্যাপী আলোচনার পর এই সমঝোতা স্মারকটি চূড়ান্ত করা হয়েছিল। এতে ফারসি ও ইংরেজি উভয় ভাষায় স্বাক্ষর করা হয়।

ইরান কর্মকর্তারা এই নথিটিকে একটি রাজনৈতিক কাঠামো হিসেবে বর্ণনা করেছেন যা ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া আগ্রাসী যুদ্ধের অবসান ঘটাতে তৈরি করা হয়েছে আর যা একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির পথ তৈরি করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এই সমঝোতার প্রথম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, লেবাননসহ সব রণাঙ্গণে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের নিজ নিজ মিত্রদের মধ্যে সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে আর পক্ষগুলো ভবিষ্যতে যে কোনো সামরিক পদক্ষেপ বা শক্তি প্রয়োগের হুমকি থেকে বিরত থাকবে।

এই সমঝোতা স্মারকে লেবাননের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানোর বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে। এই সমঝোতার আলোকে চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে আলোচনা সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

কিন্তু শনিবার লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৩২ জন নিহত হওয়ার পর ইরান ও যু্ক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া এই সমঝোতা ঝুঁকির মুখে পড়ছে আর একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির মাধ্যমে একে সুসংহত করার লক্ষ্যে চলমান আলোচনা ব্যাহত করার হুমকি তৈরি করছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us