ঢাকা
০৮ জুন ২০২৬
সর্বশেষ
Advertise with us

অতিথি পাখিদের কলতানে মুখরিত ট্যাংগুয়ার হাওড়।

বাংলাদেশ মিডিয়া প্রতিবেদক
শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি ২০২০   ২৫৮ বার পঠিত
অতিথি পাখিদের কলতানে মুখরিত ট্যাংগুয়ার হাওড়।

সুনামগঞ্জ তাহিরপুরের ঐতিহ্যবাহী ট্যাংগুয়ার হাওড়ে এখন পরিযায়ী (অতিথি) পাখির কলতানে মুখরিত। ২০২০ সালের শুরু থেকে সুদুর রশিয়া, সাইবেরিয়া সহ বিশ্বের শীত প্রধান দেশ হতে শত শত পাখি বিলে এসে পাখি সৌন্দর্য্যের বিকাশ ঘটাচ্ছে।

সরেজমিনে হাওড় এলাকায় গিয়ে এ দৃশ্য দেখা গেছে, বিদেশ হতে আগত পিয়াং হাঁস, পাতি সরালি, লেঙজা হাঁস, বালি হাঁস, পাতি কূট সহ দেশী জাতের শামুকখোল, পানকৌড়ী, ছন্নি হাঁস হাওড় এলাকা মুখরিত করে তুলছে। তবে এখনো মন্দিয়াতা গ্রামের শাহ আলমসহ আরো কয়েকজন পাষান ব্যাক্তি রাতের আঁধারে অবাধে বিল হতে এসব অতিথি পাখি শিকার করে হাটবাজারে বিক্রি করে আসছে।

এমনকি গত বছরও এলাকার কতিপয় ব্যক্তিরা এ বিল হতে বেশ কিছু পাতি সরালি হাঁস ফাঁদ পেতে ধরে বিক্রিয় করার সময় টাংগুয়ার হাওর কেন্দ্রীয় সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির সদস্যগন তাদের হাতে নাতে অনেক বারই ধরেছেন। পরে ওই পাখি শিকারীদের উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিকট নিয়ে ভ্রাম্যমান আদালতে তাদের শাস্তি প্রদান করে থাকেন। এর পর হতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কঠোরতা ও টাংগুয়ার হাওর কেন্দ্রীয় সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির সদস্যদের জোরালো নজর দারি থাকলেও বিল এলাকায় বন্ধ হচ্ছে না পাখি শিকার।

 

 

 

 

যার ফলশ্রুতিতে বর্তমানে দেশ বিদেশ হতে হরেক রকম পাখির আগমনে পুরো বিল এলাকা এখন পাখির কলতানে মুখরিত হয়ে উঠছে। বিলে অতিতের মত কচুরি পানা না থাকায় ও এলাকার মানুষ হিংস্র সভাবের হওয়ায় ধিরে ধিরে এক সময় বিলে পাখি আসাই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। বেশ কয়েক বছর ধরে ওই এলাকার কিছু উৎযোগী যুবক ট্যাংগুয়ার হাওড় কেন্দ্রীয় সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি নামে একটি সংগঠন বিলে অতিথি পাখি সহ সব ধরনের পাখি শিকার বন্ধ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

এছাড়া বিলে কোন কচুরিপানা না থাকলেও সরকারী ও বে-সরকারী ভাবে মৎস্যজীবিগন খরা মৌসুমে বিলের পানি শুকিয়ে গেলে মা মাছগুলি রক্ষায় বিলের মধ্যে বেশ কিছু এলাকায় বাঁশ কাঠ ও কিছু কচুরিপানা দিয়ে কাঠা নামের একটি করে মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তোলে, খরা মৌসুমে মা মাছগুলি যাতে ওই স্থানে লুকিয়ে থাকতে পারে।টাংগুয়ার হাওর কেন্দ্রীয় সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতি সদস্যদের প্রচেষ্টাও মৎসজীবিদের তৈরীকৃত কচুরিপানার কাঠা থাকায় অতিতের মত আবারো ধিরে ধিরে শীত মৌসুমে দেশি- বিদেশী পাখিরা অবাধে বিলে আসতে শুরু করেছে। ভবিষ্যতে বিলের বিশাল অংশে কচুরিপানা দিয়ে মাছ সহ পাখিদের বড় ধরণের অভয়াশ্রম এবং বিলের বিভিন্ন দ্বিপগুলিতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগিয়ে বনাঞ্চল তৈরী করলে সারা বছর বিল এলাকায় পাখিদের আনাগোনায় ট্যাংগুয়ার হাওড়ে আবারো ফিরে পেত তার ঐতিহ্য ও নাব্যতা বলে টাংগুয়ার হাওর কেন্দ্রীয় সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির সভাপতি জানিয়েছেন।

ইতোমধ্যে অনেক পাখি প্রেমিক ব্যক্তিরা পাখির সৌন্দর্য্য দেখতে বিল এলাকায় এসে বিড় জমাচ্ছে, বিল পাড়ে পর্যাটকদের জন্য ঘোরা ফেরা ও বসার পর্যাপ্ত ব্যাস্থা নেয়া হলে ভবিষ্যতে ট্যাংগুয়ার হাওড়টি অত্রালেকার একটি পর্যটক কেন্দ্রে রুপ নিতে পারে বলেও বিলে আগত অসংখ্য পর্যাটক বৃন্দ জানিয়েছেন।

Facebook Comments Box
Advertise with us
Advertise with us
Advertise with us