বাংলাদেশে দুর্গাপূজার আয়োজন দেখে মুগ্ধ হয়েছেন ভারতের সাংবাদিক ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ। বিশেষ করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সাজসজ্জা ও আয়োজনের প্রশংসা করে কলকাতার পুরস্কার আয়োজকদের সেসব মণ্ডপকে সম্মাননা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বাংলাদেশের পূজার আয়োজন নিয়ে নিজের মুগ্ধতার কথা তুলে ধরে তিনি লেখেন, ‘শাবাশ বাংলাদেশ!’

২২ অক্টোবর প্রকাশিত ওই পোস্টে ময়ূখ জানান, এ বছরের দুর্গাপূজায় তাঁকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে চট্টগ্রামের পূজামণ্ডপগুলো। কলকাতার বিভিন্ন পুরস্কার আয়োজকের উদ্দেশে তিনি বলেন, চট্টগ্রামের পূজাগুলোর জন্যও পুরস্কারের ব্যবস্থা করা উচিত। প্রয়োজনে কুরিয়ারে সম্মাননা পাঠানোর পরামর্শও দেন তিনি।

চট্টগ্রামের পছন্দের মণ্ডপগুলোর তালিকায় তিনি কোতোয়ালীর ‘ষোড়শীকুঞ্জ সর্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদ’ এবং উত্তর কাট্টলীর তালুকদারবাড়ী এলাকার ‘বাণী মন্দির’ প্রাঙ্গণকে শীর্ষে রেখেছেন। এরপর তাঁর পছন্দের তালিকায় রয়েছে খলিফাপট্টি ও ব্রজধাম স্মৃতি সংসদসহ অন্যান্য মণ্ডপ। যেসব পূজামণ্ডপ দেখা হয়নি, সেগুলোর নাম জানালে আগামী বছর সেগুলোর প্রচারেও সহযোগিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

ডিজিটাল মাধ্যমে এ বছর বাংলাদেশের অনেক প্রতিমা দেখেছেন জানিয়ে ময়ূখ লেখেন, কোনো এক বছর সরাসরি হেঁটে হেঁটে পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের ফুচকা ও মসলাযুক্ত কোমল পানীয়ের স্বাদ নেওয়ার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।

চট্টগ্রামের বাইরেও বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার পূজার আয়োজন নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এই সাংবাদিক। ময়মনসিংহের দুর্গাবাড়ী সড়কে সিঁদুরখেলার মিছিল এবং চিত্রনায়ক দেবের ‘ভজগৌরাঙ্গের নাম রে’ গানের তালে মানুষের নাচের দৃশ্য তাঁর ভালো লেগেছে বলে জানান। আগামীবার দেবের পাশাপাশি ঢালিউড তারকা শাকিব খানকেও যুক্ত করার পরামর্শ দেন তিনি।

কুমিল্লার রথের উৎসবকে অসাধারণ উল্লেখ করলেও সেখানে ও সিলেটে থিমভিত্তিক পূজা তাঁর চোখে পড়েনি বলে জানান ময়ূখ। এসব আয়োজনের তথ্য থাকলে তাঁকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি। কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় দীর্ঘদিন পর নতুন করে দুর্গাপূজা শুরু হওয়াকেও আনন্দের খবর হিসেবে উল্লেখ করেন।

পোস্টের শেষাংশে নিজের শিকড় ও পরিচয় ধরে রাখার আহ্বান জানিয়ে ময়ূখ লেখেন, ‘জমি ছেড়ো না। নিজের শিকড় বদলাতে দিয়ো না! ব্যাস এটুকুই!’