বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে পর্যটন, ব্যবসা ও তীর্থযাত্রার সুযোগ বাড়াতে ঢাকা-পোখরা সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীতে আয়োজিত পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের একটি সেশনে তিনি এ আহ্বান জানান।
নেপালের রাষ্ট্রদূত বলেন, পোখরায় ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু হয়েছে। তবে এখনো ঢাকার সঙ্গে সরাসরি বিমান যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ঢাকা-পোখরা সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে দুই দেশের মানুষের যাতায়াত বাড়ার পাশাপাশি পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে ঢাকা ও কাঠমান্ডুর মধ্যে প্রতি সপ্তাহে প্রায় এক ডজন ফ্লাইট চলাচল করে। দুই দেশের মানুষের চাহিদা ও বিদ্যমান সম্ভাবনার তুলনায় এই যোগাযোগ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। এ জন্য সড়ক, বিমান ও নৌপথে যোগাযোগের নতুন সুযোগ তৈরি করার ওপর জোর দেন তিনি।
ঘনশ্যাম ভান্ডারী বলেন, বাংলাদেশ নেপালকে মোংলা ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে। এর পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণেরও যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
বিশেষ করে নেপালের জলবিদ্যুৎ, পর্যটন অবকাঠামো, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও নতুন উদ্যোগ বা স্টার্টআপ খাতে বাংলাদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
নেপাল থেকে বাংলাদেশে জলবিদ্যুৎ রপ্তানির বিষয়টিকেও সম্ভাবনাময় সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত। তার মতে, আন্তঃসীমান্ত জ্বালানি অংশীদারত্ব দুই দেশের জন্যই পারস্পরিক সুবিধা তৈরি করতে পারে।
‘নতুন করে গড়ে ওঠা এক বিশ্বে ক্ষমতা, প্রযুক্তি ও আস্থার পথচলা’ স্লোগানে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন আয়োজন করেছে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)।
তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ জন বক্তা, ৩০০ জন প্রতিনিধি এবং এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী অংশ নিয়েছেন। সাবেক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, কূটনীতিক, গবেষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, উদ্ভাবক ও তরুণ নেতৃত্ব এতে অংশ নিয়েছেন। সম্মেলনটি ৫ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।



মন্তব্য করুন