দুবাই থেকে তেলআবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজ ইসরায়েলে বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে সহকারী পাইলট হামাম আলহামামির বিরুদ্ধে। উড়োজাহাজে নাশকতার চেষ্টা এবং ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমানের নাগরিক হামাম আলহামামিকে ২০২৪ সালে নিরাপত্তাঝুঁকি হিসেবে শনাক্ত করে উড়োজাহাজ চালানো থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ওমান এয়ারে সহকারী পাইলট হিসেবে প্রশিক্ষণের সময় তার কাছে উগ্রপন্থি মতাদর্শ-সংশ্লিষ্ট উপকরণ পাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে উড়োজাহাজ চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও পরে তিনি দুবাইভিত্তিক ফ্লাইদুবাইয়ে চাকরি পান। এর মাধ্যমে সংবেদনশীল দুবাই-তেলআবিব রুটে উড়োজাহাজ চালানোর সুযোগ পান তিনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামামি সংযুক্ত আরব আমিরাতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ওমানি এবং মা সিরীয়। জীবনের বড় একটি সময় তিনি ওমানের বাইরে, বিশেষ করে সিরিয়ায় কাটিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেওয়ার আগে হামামি ওমান এয়ারে প্রায় সাত বছর কাজ করেছিলেন বলে তার মুছে ফেলা লিংকডইন প্রোফাইলের তথ্য উদ্ধৃত করে সিএনএন জানিয়েছে। পরে রয়্যাল এয়ার মারক-এ যোগ দেওয়ার পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন তিনি।
ঘটনার পর মুছে ফেলা ওই লিংকডইন প্রোফাইলে সন্ত্রাসবাদ-সম্পর্কিত দুটি পোস্টও পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। একটি ভিডিওতে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্সের ককপিট এবং ইসরায়েলি বিমান সংস্থা এল আলের একটি উড়োজাহাজ দেখা যায়। ভিডিওটির শেষে উগ্রপন্থি সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তির ছবি ছিল বলে সিএনএন জানিয়েছে।
অন্য একটি পোস্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি মক্কা, মদিনা ও জেরুজালেমের ছবি এবং মৃত্যুভয় ও মর্যাদা রক্ষার বিষয়বস্তুর একটি কবিতা ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ১৭০ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে উড়োজাহাজটি দুবাই থেকে তেলআবিবের উদ্দেশে যাত্রা করে। যাত্রীদের মধ্যে ২৪ জন শিশু ছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। উড়োজাহাজটি প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় থাকা অবস্থায় হামামি নাশকতার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
একপর্যায়ে বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজটি দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে। প্রতি মিনিটে প্রায় ২৩ হাজার ফুট গতিতে নিচে নেমে এটি প্রায় ১৫ হাজার ৬০০ ফুট উচ্চতায় চলে আসে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে গেলে হামামি ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে ছুরিকাঘাত করেন বলে অভিযোগ। আহত হওয়ার পরও মাচ্ছার ককপিটের দরজা খুলে দেন। এরপর কয়েকজন যাত্রী ও ক্রু হামামিকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ককপিটের বাইরে আহত মাচ্ছারকে দেখা যায়। যাত্রীদের মধ্যে ইয়ানিভ হায়ুন হামামিকে ধরে ককপিট থেকে দূরে সরিয়ে নেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এ সময় একজন দন্ত চিকিৎসক আহত পাইলটকে জরুরি চিকিৎসা দেন। পরে উড়োজাহাজের পেছনে থাকা দুই বিকল্প পাইলট ককপিটে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ নেন। তারা উড়োজাহাজটির গন্তব্য পরিবর্তন করে সৌদি আরবের তাবুকের দিকে নিয়ে যান। পরে ফ্লাইদুবাইয়ের উড়োজাহাজটি সেখানে নিরাপদে অবতরণ করে।



মন্তব্য করুন