
চট্টগ্রামের অপরাধপ্রবণ ও সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত তিন উপজেলা—রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়িকে বিশেষ প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তা নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে।
এসব এলাকার অপরাধীদের সনাক্তকরণ ও যাতায়াত পথ রুদ্ধ করতে বসানো হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন (এআই) ক্যামেরা এবং দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে টহল দেবে থার্মাল ইমেজিং ড্রোন।
পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নতুন করে চারটি সশস্ত্র আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের বিস্তারিত প্রস্তাবনা পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
উচ্চপ্রযুক্তির নজরদারি ও বাড়তি ক্যাম্প
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিস্তৃত পাহাড়ি এলাকা এবং যোগাযোগের দুর্গমতার কারণে দীর্ঘ দিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে টহল পরিচালনায় বেগ পেতে হচ্ছে।
এই ভৌগোলিক সুযোগ কাজে লাগিয়ে অপরাধীরা আঞ্চলিক সীমান্ত পেরিয়ে অস্ত্র, মাদক ও বন্যপ্রাণী চোরাচালানসহ নানাবিধ অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে।
বর্তমানে এই তিন উপজেলায় পাঁচটি থানা এবং ১০টি পুলিশ ফাঁড়ি কার্যকর রয়েছে।
প্রস্তাবিত নতুন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে:
নতুন সশস্ত্র ক্যাম্প: ফটিকছড়িতে ১টি, রাউজানে ১টি এবং রাঙ্গুনিয়ার রাজানগর ও পদুয়ায় ২টিসহ মোট ৪টি নতুন এপিবিএন ক্যাম্প বসানো হবে।
জনবল বৃদ্ধি: প্রতি ক্যাম্পে ১ প্লাটুন করে মোট ২২০ জন অতিরিক্ত এপিবিএন সদস্য মোতায়েন থাকবে।
এআই ক্যামেরা: উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশ ও বের হওয়ার সড়ক এবং সম্ভাব্য অপরাধমূলক যাতায়াত পয়েন্টগুলোতে স্বয়ংক্রিয় এআই চালিত নম্বর প্লেট ও চেহারা শনাক্তকারী ক্যামেরা বসানো হবে।
থার্মাল ড্রোন নজরদারি: রাতের অন্ধকার কিংবা ঘন জঙ্গলেও অপরাধীদের অবস্থান শনাক্ত করতে থার্মাল ড্রোন ব্যবহার করা হবে।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নাজিমুল হক জানান, “পাহাড়ি এলাকার সরজমিন পর্যবেক্ষণ ও অপরাধের তথ্য বিশ্লেষণ করেই এই প্রযুক্তিভিত্তিক ও সময়োপযোগী পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরে প্রেরিত প্রস্তাবনাটির অনুমোদন মিললেই দ্রুত বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে।”
প্রস্তাবিত পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামের এই সীমান্তবর্তী ও পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে অপরাধমূলক তৎপরতা শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
