কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদের ১৩টি দানসিন্দুক খুলে ৪৩ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। শনিবার (২৮ জুন) সকাল সাড়ে ৭টায় জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিনের উপস্থিতিতে দানসিন্দুকগুলো খোলা হয়।
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খানসহ পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দানসিন্দুক খোলার পর জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, টাকার পাশাপাশি স্বর্ণ, রুপা এবং বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া গেছে।
পরে ৪৩টি বস্তায় ভরা টাকা মসজিদের দ্বিতীয় তলায় নেওয়া হয়। সেখানে প্রায় ৩০০ জন মাদ্রাসাশিক্ষার্থী, ১০ জন শিক্ষক এবং রূপালী ব্যাংকের ১৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে টাকা গণনার কাজ করছেন। গণনা শেষে শনিবার সন্ধ্যায় মোট দানের পরিমাণ জানা যাবে।
এর আগে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর ৩ মাস ২৭ দিন পর দানসিন্দুক খুলে ৩৫ বস্তা টাকা থেকে ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া যায়। এছাড়া স্বর্ণালঙ্কার, রুপার অলঙ্কার ও বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও উদ্ধার করা হয়।
জেলা প্রশাসক জানান, পাগলা মসজিদের দানের অর্থ মসজিদ কমপ্লেক্স, মাদ্রাসা, এতিমখানা পরিচালনার পাশাপাশি বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হয়।
কিশোরগঞ্জ শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে প্রতিদিন দেশ-বিদেশের অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মানুষ দান করে থাকেন। ফলে প্রতি কয়েক মাস পরপর দানসিন্দুক খুলে অর্থ গণনা করা হয়।