
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার অজপাড়াগাঁয়ের এই শিল্পীর বাস ঢেকুরিয়া গ্রামের শাহা আলম বকুল একজন কণ্ঠ শিল্পী। জীবনের ৫২ টি বছর পেরিয়ে এখন তিনি উপার্জনহীন। সংসারের টানা পোড়েনে এখন তার সম্মান নিয়ে সংসার চালানোর কোন উপায় নেই। অন্যের জমিতে একটি ছাপড়া ঘর তুলে সেখানেই স্ত্রীকে নিয়ে থাকেন। ব্যবসায় মার খেয়ে নিঃস্ব এই শিল্পীর দুর্দশার কথা সাংবাদিকের মাধ্যমে জানতে পারেন সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ। এরপর তিনি কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ হাসান সিদ্দিকীকে এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিতে বলেন। অবশেষে বকুলকে তার চাওয়া মোতাবেক ঢেকুরিয়া বাজারে একটি মুদি দোকান করার জন্যে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। গতকাল রবিবার(৬ মার্চ)সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক তার নিজ কার্যালয়ে নগদ চল্লিশ হাজার টাকা তুলে দেন শিল্পী বকুলের হাতে। একইভাবে তিনি বিধবা রেখা খাতুন., আমিনা খাতুন ও গোলাপী খাতুনকে উপার্জনের পথ করে দিতে একটি করে সেলাই মেশিন ক্রয়ের অর্থ প্রদান করেন। সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত শিল্পী বকুল জানান, জীবনের বেশির ভাগ সময় পেরিয়ে এসে আজ এমন অবস্থায় দিন যাচ্ছে যে পারছি না হাত পেতে চাইতে। অথচ সংসার চালাতে পারছিলাম না। কাজিপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক আবদুল জলিল, ইউএনও জাহিদ স্যারের প্রচেষ্টায় সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক স্যার আমাকে একটি দোকান ঘরের অর্থ দিলেন। তাদেরকে প্রাণভরে দোয়া রছি।সেইসাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। সেলাই মেশিন হাতে পেয়ে মাধ্যমিকে পড়ুয়া দুই কন্যা সন্তানের মা গোলাপী খাতুন জানান, স্বামী ছেড়ে গেছে অনেকদিন। সেই থেকে অনেক কষ্টে আমার দুই মেয়েকে স্কুলে পড়াচ্ছি। সব মিলে খরচ আর কুলিয়ে উঠতে পারছিলাম না। আজ উপার্জনের জন্যে একটি সেলাই মেশিন পেলাম। আমি ইউএনও স্যার, ডিসি স্যার ও আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই। কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ হাসান সিদ্দকী জানান, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনেক আন্তরিক। আর ডিসি স্যার যেখানে যান তিনি সেখানেই খোঁজ নিয়ে এমন অসহায়দের সহায়তা করে যাচ্ছেন। সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ জানান, ‘ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্যই হচ্ছে অসহায়দেরকে সহায়তা দিয়ে ভিক্ষার হাত কর্মের হাতে পরিণত করা। সেই লক্ষ্যে এখন গৃহহীনরা ঘর পাচ্ছে, জমি পাচ্ছে, নানা জনমুখী কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি এদেশকে আরও এগিয়ে নিতে যেতে কাজ করছেন। আমরা তার দেখানো পথেই অসহায়দের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি, যাতে তারা কর্মক্ষম হয়।
