ঢাকা
০৭ আগস্ট ২০২৬
দেশজুড়ে
“ইলিয়াস আলীকে অপহরণ-হত্যা মামলা: সাইফুর রহমান গ্রেপ্তার হচ্ছেন” খাগড়াছড়ি রামগড় পুলিশের অভিযানে: ১৫ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার কক্সবাজার উখিয়া সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে যুবক গুরুতর আহত জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান  কক্সবাজারের পুরনো মাদক কারবারি গ্রেফতার ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক স্টার লাইন বাসের ধাক্কায় অটোরিকশা চালক নিহত হামে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, নতুন করে আক্রান্ত ৮৫ জন মরণফাঁদ সুনামগঞ্জ সড়ক: মাঝরাস্তায় খুঁটি, দেড় বছরে শতাধিক দুর্ঘটনা ‘সচিবালয় অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের পদযাত্রায় পুলিশের বাধা’ নদীদূষণ রোধে কঠোর প্রধানমন্ত্রী: সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ দেশ ছাড়ার পর হাসিনা পরিবারের সদস্যরা এখন কোথায়?

২০২১ সালে ৮১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার, খুন ১৮৩

বাংলাদেশ মিডিয়া ডেস্ক
বুধবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২   ৮৪১ বার পঠিত
২০২১ সালে ৮১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার, খুন ১৮৩

২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ৮১৮ জন শিশু ধর্ষণের শিকার ও ৯৪ জন শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা করা হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়ে নিহত হয়েছে ১৪ জন মেয়ে শিশু। এছাড়া যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১১০টি শিশু। ২০২০ সালে শিশু ধর্ষণের এ সংখ্যা ছিল ৬২৬। মঙ্গলবার মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এমজেএফের জ্যেষ্ঠ কো-অর্ডিনেটর (মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন) শাহানা হুদা রঞ্জনার সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশে শিশুদের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ‘বাংলাদেশ শিশু পরিস্থিতি ২০২১’ এসব তথ্য উপস্থাপন করে এমজেএফ। এতে বলা হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ও শিশুদের জনসমাগমে অনুপস্থিতি সত্ত্বেও সারাদেশে বাল্যবিয়ে, শিশু ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে। বিভিন্ন কারণে হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে ১৮৩ জন শিশু ও হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে ১৩৫টি শিশুকে।

২০২০ সালে হত্যার শিকার হয়েছিল ১৪৫ জন শিশু। ৬৯ জন শিশু সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। ২০২০ সালে এ সংখ্যা ছিল ১৫৮ জন। ২০২১ সালে সড়ক দুর্ঘটনা ও অন্যান্য দুর্ঘটনায় নিহত এবং আহত হওয়ার সংখ্যা ২০২০ সালের তুলনায় কমেছে। অবনতিশীল শিশু পরিস্থিতি থেকে এটি সুস্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে যে, বাংলাদেশের শিশুরা তাদের ঘরেই নিরাপদ নয়। অধিকাংশ শিশু ধর্ষণ পারিবারিক পরিবেশে পরিচিতদের মাধ্যমেই সংঘটিত হয়েছে।

পাঁচটি জাতীয় বাংলা দৈনিক ও তিনটি জাতীয় ইংরেজি দৈনিকে প্রকাশিত শিশু অধিকার বিষয়ক সংবাদ পর্যালোচনা করে এ তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করা হয়েছে। সংবাদ পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিভিন্ন কারণে এই সময়ে আত্মহত্যা করেছে ৭৮টি শিশু। এরই মধ্যে ৫৭ ছেলে ও ২১ মেয়ে। ২০২০ সালে আত্মহত্যাকারী শিশুর সংখ্যা ছিল ৩৪ ও আত্মহত্যার চেষ্টা করতে গিয়ে আহত হয়েছে ২৩ জন। মূলত পরীক্ষায় ফল বিপর্যয়, পরিবারের ওপর রাগ, প্রেম, উত্ত্যক্ত হয়ে, ধর্ষণের শিকার বা ধর্ষণ চেষ্টা, ধর্ষণের বা শ্লীলতাহানির বিচার না পাওয়া ও সাইবার ক্রাইম বা ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়েও আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে।

এর বাইরে নানা ধরনের নির্যাতনে আহত হয়েছে ২৫৪ জন শিশু। হারিয়ে গেছে ৩৮টি শিশু। ৫৭০ জন শিশু পানিতে ডুবে মারা গেছে। ২০২০ সালে পানিতে ডুবে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১৬৫। নিখোঁজ হয়েছে ৩৮ শিশু। ২০২০ সালে নিখোঁজ ও অপহরণের শিকার হয়েছে ২২ জন শিশু। অপহরণের কারণ হিসেবে টাকা, প্রেম, বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, প্রতিশোধ গ্রহণ, পাচার ও মুক্তিপণ দাবি সংবাদে প্রকাশিত হয়েছে।

শিশু নির্যাতনের ৫৬টি ঘটনার মাধ্যমে ২৫৪ জন শিশু নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশিত হয়েছে। ২০২০ সালে শিশু নির্যাতনের ১৬টি ঘটনা ঘটেছে। নির্যাতনকারী হিসেবে গৃহকর্তা, বাবা-মা, শিক্ষক, উত্ত্যক্তকারী, স্থানীয় চেয়ারম্যান, চাকরিদাতা, প্রতিবেশী ও সৎমা। এমনকি ২০২১ সালে অপরাধে সংশ্লিষ্ট হওয়া শিশুর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১২০, যা ২০২০ সালে ছিল মাত্র দুজন। শিশুকে নিয়ে ২৫টি বিষয়ের ওপর নেতিবাচক খবর ছাপা হয়েছে ১ হাজার ৯৩০টি আর ইতিবাচক সংবাদ ছাপা হয়েছে ১২টি বিষয়ের ওপর ১০৬টি।

এমজেএফের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনামের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (শিশু ও সমন্বয় উইং) মুহিবুজ্জামান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি মাহবুবা বিলকিস। এমজেএফের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও আলোচনায় অংশ নেন।

Facebook Comments Box
Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa