মানুষের মধ্যে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় শিল্পকলা ও সংস্কৃতির শক্তি সবচেয়ে বেশি বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান।

তিনি বলেছেন, আণবিক বোমার চেয়েও শক্তিশালী অস্ত্র শান্তি। সংগীত, চিত্রকলা ও নৃত্যের মতো শিল্প মানুষের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি করে এবং ভাষা ও ভৌগোলিক সীমারেখা অতিক্রম করে মানুষকে কাছাকাছি আনতে পারে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমিতে বিশ্ব শান্তি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মঈন খান বলেন, তিনি নিউক্লিয়ার ফিজিক্সের ছাত্র এবং আণবিক বোমা তৈরির বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। ইতিহাসে আণবিক বোমাকে অত্যন্ত শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হলেও তার বিশ্বাস, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হচ্ছে শান্তি।

বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ, সংঘাত ও অশান্তি থেকে উত্তরণের পথ হিসেবে শান্তির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শুধু বিশ্ব শান্তি দিবসে নয়, বছরের প্রতিটি দিন শান্তিতে বিনিয়োগ করতে হবে।

শিল্পকলার শক্তি তুলে ধরে মঈন খান বলেন, সংস্কৃতি, সংগীত, চিত্রকলা ও নৃত্য কোনো দেশের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একজন শিল্পী নিজের ভাষা না জানা মানুষের কাছেও সৃষ্টিশীলতার মাধ্যমে পৌঁছাতে পারেন। এভাবেই শিল্প মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে।

শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের স্মৃতির কথাও তুলে ধরেন মঈন খান। তিনি বলেন, একসময় বর্তমান শিল্পকলা একাডেমির জায়গাটি সবুজ মাঠ ছিল। জিয়াউর রহমান প্রতিবছর সেখানে গ্রামবাংলার ভাটিয়ালি, বাউল ও লোকসংগীতের শিল্পীদের আমন্ত্রণ জানাতেন এবং তাদের গান শুনতেন।

পরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে শিল্পকলা একাডেমির অবকাঠামো উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তৎকালীন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা সেলিমা রহমানের উদ্যোগে শিল্পীদের জন্য স্টুডিও, অডিটোরিয়ামসহ বিভিন্ন সুবিধা তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল বলে জানান মঈন খান।