ঢাকা
২৬ জুলাই ২০২৬
দেশজুড়ে
সিলেট জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের আওলাদের বিরুদ্ধে বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ নারী উদ্যোক্তাদের সঙ্গে ভারতীয় সহকারি হাই কমিশনার সিলেটের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড: ২৭ জুলাই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের ঘোষণা চিফ প্রসিকিউটরের দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট থমকে যাওয়ার ঝুঁকিতে দেশের শিল্প খাত সাঈদীর পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়া সুখরঞ্জন বালীকে গুমের অভিযোগ: সাবেক এএসপি ফজলুর রহমান গ্রেপ্তার কিশোরী ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ: শিক্ষিকার বাবা গ্রেফতার জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরুল: সংসদ সদস্য পদ নিয়ে শুরু নতুন আলোচনা জামায়াত থেকে বহিষ্কার এমপি গাজী নজরুল ইসলাম ঝালকাঠি পৌরসভায় নির্মাণ হচ্ছে আধুনিক বাস টার্মিনাল, মাল্টিপারপাস মার্কেট ও সিটি পার্ক, বরাদ্দ প্রায় ৩৮ কোটি টাকা বান্দরবানে পাহাড়ি সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পর্যটকবাহী বাস খাদে, আহত ১২; চালক পলাতক

অতিষ্ঠ সিলেটবাসী

সিলেট জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের আওলাদের বিরুদ্ধে বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

শাওন আহমেদ সাদ, সিনিয়র ষ্টাফ রিপোর্টার
শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬   ৪৬ বার পঠিত
সিলেট জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের আওলাদের বিরুদ্ধে বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

সিলেট জোনাল সেটেলমেন্ট কার্যালয়ে সেবা নিতে গিয়ে দীর্ঘসূত্রতা, হয়রানি, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং ঘুষ ছাড়া ফাইল এগোয় না—এমন অভিযোগে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সেবাগ্রাহকরা| বিশেষ করে সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব, সিলেট সদর) মো. আওলাদ হোসেনের বিরুদ্ধে দালালচক্রের মাধ্যমে ফাইল নিষ্পত্তি ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ তুলেছেন একাধিক ভুক্তভোগী|

দৈনিক বাংলাদেশ মিডিয়া’র অনুসন্ধানে পাওয়া নথি, ভুক্তভোগীদের বক্তব্য এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি কর্মকর্তাদের দাপ্তরিক ভুলের দায়ও বছরের পর বছর বহন করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে| অথচ একই ধরনের অনেক ফাইল মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়ার অভিযোগও রয়েছে|

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার কুশিঘাট এলাকার বাসিন্দা মো. আলী হোসেন সরকারের খরিদা ১ দশমিক ২০ একর জমির বি.এস. পর্চা সংশোধনের জন্য গত ২৪ মার্চ ২০২৪ সালে জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার, সিলেটের কাছে আবেদন করেন| আবেদনটি গত ২৭ মার্চ ২০২৪ তারিখে ডকেট নং-১৩৭৯ হিসেবে গ্রহণ করা হয়|

নথিপত্রে দেখা যায়, সিলেট সদর থানার বহর মৌজার (জে.এল. নং-৬১) বি.এস. খতিয়ান নং-৪৬৩২ ও দাগ নং-৯০৪৫ সংক্রান্ত একটি তথ্যে অসঙ্গতি রয়েছে| অভিযোগ অনুযায়ী, একই সম্পত্তির ৪৩৫৯ নম্বর খতিয়ানে মালিক সাদেক মিয়ার পিতার নাম ‘ইসরাব আলী’ সঠিকভাবে উল্লেখ থাকলেও ৪৬৩২ নম্বর খতিয়ানে ভুলবশত ‘আলমাছ মিয়া’ লেখা হয়েছে|

ভুক্তভোগীর দাবি, এটি সম্পূর্ণ দাপ্তরিক ভুল হলেও সেই ভুল সংশোধনের জন্য তাঁকে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরতে হচ্ছে| দীর্ঘদিন কোনো শুনানি না হওয়ায় তিনি গত ৮ জুন ২০২৬ তারিখে দ্রুত শুনানির আবেদন জানিয়ে আরেকটি স্মারকপত্র (ডকেট নং-১১৪৪) জমা দেন| পরে নথিতে হাতে লিখে গত ১৭ জুলাই ২০২৬ শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হলেও ২৩ জুলাই পর্যন্ত কোনো কার্যকর নিষ্পত্তি হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি|

সরেজমিন অনুসন্ধান এবং একাধিক সেবাগ্রাহকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্ধারিত নিয়মে আবেদন করেও অনেকের ফাইল মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর ঝুলে থাকে| তবে দালালের মাধ্যমে চুক্তি করলে একই ধরনের ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে|

ভুক্তভোগীদের দাবি, ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে দালালচক্রের মাধ্যমে অনেক জটিল ফাইলও দ্রুত সমাধান করা হয়| অভিযোগ রয়েছে, অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর যোগসাজশেই এই সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে|

এক ভুক্তভোগী বলেন, “অফিসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকলেও কোনো কাজ হয় না| একজনের জায়গায় আরেকজনের নাম বসিয়ে দেওয়া হয়| পরে সেই ভুল সংশোধনের জন্য বছরের পর বছর ঘুরতে হয়| কিন্তু দালালের মাধ্যমে গেলে অল্প সময়েই ফাইলের সমাধান হয়ে যায়|”

একাধিক ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব, সিলেট সদর) মো. আওলাদ হোসেনের অধীন থাকা ফাইলগুলোর ক্ষেত্রে দালালদের প্রভাব বেশি দেখা যায়| তাঁদের দাবি, সরাসরি অর্থ লেনদেন না করে একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ফাইল নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়|

এসব অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি অফিসে গিয়ে এবং মোবাইল ফোনে মো. আওলাদ হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রস্তুতের সময় পর্যন্ত তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি|

সেটেলমেন্ট অফিসকে ঘিরে দীর্ঘদিনের অভিযোগের পর গত ৫ জুলাই দুপুরে র‍্যাব-৯ ও সিলেট জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে জোনাল সেটেলমেন্ট কার্যালয়ে বিশেষ মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়|

অভিযানে লায়েক মিয়া, আব্দুল মান্নান, সুব্রত পাল, আব্দুল হান্নান, জিয়াউর রহমান ও সুজন দেবনাথ নামে ছয়জনকে আটক করা হয়| পরে তাঁরা সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও প্রতারণার বিষয়টি  স্বীকার করায় দণ্ডবিধির ১৮৮ ধারায় বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত|

সেই সময় র‍্যাব-৯-এর মিডিয়া অফিসার (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানিয়েছিলেন, জনস্বার্থে দালালচক্র ও প্রতারকদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে|

স্থানীয়দের অভিযোগ, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও কয়েকজন দালালের সাজা হলেও কার্যালয়ের সামগ্রিক পরিস্থিতির তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি| বরং নতুন কৌশলে দালালচক্র আগের মতোই সক্রিয় রয়েছে|
ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রকৃত সমস্যা দালাল নয়; বরং অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশের যোগসাজশ না থাকলে দালালচক্র টিকে থাকা সম্ভব নয়|

সিলেট জোনাল সেটেলমেন্ট কার্যালয়ের সেবার মান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ রয়েছে| অতীতে এ কার্যালয়ের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচিও পালিত হয়েছে| বিভিন্ন ভিডিওচিত্র ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্যে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করানো, নথিতে ভুল রেখে পরে তা সংশোধনের নামে হয়রানি এবং দালালনির্ভর সেবার অভিযোগ উঠে এসেছে|

বাংলাদেশ সরকার ভূমিসেবা ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে হয়রানি কমানোর উদ্যোগ নিলেও সিলেট জোনাল সেটেলমেন্ট কার্যালয়ে সেই সুফল পাচ্ছেন না বলে দাবি সাধারণ মানুষের|

সরকারি কর্মকর্তাদের ভুলের দায় কেন সাধারণ মানুষ বছরের পর বছর বহন করবে? দালালচক্র ও অনিয়মের অভিযোগ থেকে কবে মুক্ত হবে সিলেটের ভূমিসেবা? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা|

Facebook Comments Box
Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa