ঢাকা
২৬ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
এক মন্ত্রণালয়ে একাধিক প্রতিমন্ত্রী—আইনে কি অনুমোদন আছে? মুহুরী নদীর পানি বাড়ছে হু হু করে: বাঁধ ভাঙার আশঙ্কায় নির্ঘুম ফেনীবাসী ​ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হচ্ছে যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা নুরুল ইসলামকে ঢাকার পাশে ঘন ঘন ভূমিকম্প: বড় বিপদের আগাম বার্তা যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন সিলেটের মোহাম্মদ মাকসুদ আহমেদ তাহিরপুরে হত্যা করে লাশ গুমের ঘটনায় পলাতক আসামি নারায়ণগঞ্জে গ্রেফতার বিদ্যুৎ সাশ্রয় কর্মসূচি: ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিরল সূর্যগ্রহণে ইউরোপে উন্মাদনা হবিগঞ্জ কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় বিশাল ক্ষতিপূরণ পেতে যাচ্ছে ইরান

সিলেটে জঙ্গিদের নেটওয়ার্ক : পুলিশ তৎপর

বাংলাদেশ মিডিয়া ডেস্ক
শনিবার, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২০   ২৪৪ বার পঠিত
সিলেটে জঙ্গিদের নেটওয়ার্ক : পুলিশ তৎপর

ফের জঙ্গি ‘তৎপরতায়’ ঘুম ভাঙলো সিলেট পুলিশের। আতিয়া মহলের ঘটনার প্রায় ৩ বছর পর সিলেটে পাওয়া গেল জঙ্গিদের উপস্থিতি। ঢাকা থেকে এসেছিল ৫ জন। এরপর তারা সিলেটে জোগাড় করে আরো ৪ জনকে। সিলেটের জঙ্গিদের ‘দায়িত্বশীল’ হিসেবে গড়ে তোলে ঢাকার জঙ্গিরা। তবে- তাদের তৎপরতা সম্পর্কে জানতেন না বাসার মালিকও। পুলিশ ছিল অন্ধকারে। ৯ জঙ্গি গ্রেপ্তারের পর পুলিশ তৎপরত হয়ে উঠেছে।

তাদের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে খোঁজ খবর নিচ্ছে। ধারনায় রয়েছে সিলেটে আরো জঙ্গি থাকতে পারে। পুলিশ জানায়- প্রায় ৩ মাস আগে নগরীর বালুচর এলাকার আরামবাগের মাখন মিয়ার বাসা ভাড়া নিয়েছিল জঙ্গিরা। মাখন মিয়ার স্ত্রী মর্জিনা বেগম ‘ছাত্র’ পরিচয়ে ওদের বাসা ভাড়া দেন। গণমাধ্যমকে মর্জিনা জানিয়েছেন, ভাড়া নেয়ার সময় তারা জানিয়েছিল মাদ্রাসায় পড়ালেখা করে। কোরআন নিয়ে গবেষণা করছে তারা। স্থানীয়রা জানিয়েছেন- এমসি, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারী কলেজের পাশেই হচ্ছে আরামবাগ এলাকা। ওই এলাকা প্রচুর শিক্ষার্থী বাসা ভাড়া করে পড়ালেখা করে। এলাকার মানুষও সরল বিশ্বাসে বাসা ভাড়া দেন। তারা জানান- মাখন মিয়ার বাসা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া জঙ্গিরা খুব নিরিবিলি থাকতো। এলাকায় কারো সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না। তারা প্রায় সময় বের হয়ে যেত। শিক্ষার্থীদের মতো তাদের সঙ্গে ব্যাগ থাকতো। এর বেশি কিছু এলাকার মানুষ জানেন না।

 

 

 

 

 

বুধবার রাতে ঢাকা পুলিশের এন্টি টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরা সিলেটে অভিযান চালায়। এ সময় আরামবাগের ওই বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আল্লাহর দলের ৯ কর্মীকে। গ্রেপ্তারের পর জানা যায়, ঢাকায় পুলিশের অভিযানের মুখে আল্লাহর দলের ৫ জঙ্গি সিলেটে চলে আসে। এর মধ্যে তাদের উদ্দেশ্য ছিলো দুটি। একটি হলো- গ্রেপ্তার আতঙ্ক এড়ানো এবং অপরটি হলো সংগঠনের কার্যক্রম চালু রাখা। সিলেটে বাসা ভাড়া নেয়ার পর তারা স্থানীয়ভাবে ৪ জনকে বশে আনে। এরপর এই চার জনকে দায়িত্ব দিয়ে তারা দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করে। চার জনের মাধ্যমে আরো অনেক তরুণের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক হয়েছে। তাদের সংগঠনের কার্যক্রম সর্ম্পকে ধারণা দেয়া হলেও তারা সরাসরি এই কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হয়নি।

এদিকে গ্রেপ্তারের পর জঙ্গিদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশের এন্টি টেরোরিজম ইউনিট। সিলেটে তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ নেয়া হচ্ছে। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার পরিতোষ ঘোষ বৃহস্পতিবারই জানিয়েছিলেন, সিলেটে এই জঙ্গিদের নেটওয়ার্ক কতখানি বিস্তৃত তা খতিয়ে দেখা হবে। যেহেতু মামলা করা হয়েছে সেহেতু মামলার তদন্তের আলোকেই পুলিশ এই কাজ করবে। ইতিমধ্যে নজরদারি বাড়ানোও হয়েছে। ২০১৭ সালের মার্চ মাস সিলেটের ইতিহাসের কালো অধ্যায়। মার্চের শেষার্ধে সিলেটের আতিয়া মহলে দেশ কাঁপানো জঙ্গি বিরোধী অভিযান হয়। অভিযানের ফাঁকেই জঙ্গিদের গ্রেনেডে মারা যান র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান আবুল কালাম আজাদসহ পুলিশের ৩ চৌকস কর্মকর্তা। এ ঘটনার আগে ২০০৬ সালের মার্চ মাস ছিল সিলেটের ইতিহাসের আরেকটি কালো অধ্যায়। ওই সময় জঙ্গিগুরু শায়েখ আব্দুর রহমান গ্রেপ্তার হয়েছিল সিলেটের সুর্য দীঘল বাড়ি থেকে। গ্রেপ্ততার এড়াতে শায়খ রহমান দলবল নিয়ে ওই বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল। একই সময় সিলেটে এসেছিল বাংলাভাইও।

সিলেট পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন- গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মেহেদী হাসান, বাবর, আজাদ, কামাল, সুমন, জুয়েল ও মো. স্বপন সিলেটের বিভিন্ন ইউনিটের দায়িত্বশীল ছিল। ফলে তাদের ঘিরে সিলেটে জঙ্গি সংগঠনের অস্বিত্ব থাকতে পারে। এ নিয়ে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ কাজ করছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa