
আজ ১২ই রবিউল আউয়াল।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)।
আজকের এই দিনেই মানবতার মুক্তির দূত, শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে মক্কা নগরীর সম্ভ্রান্ত কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করেন।
মুসলিম উম্মাহর কাছে দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বরকতময়।
সারা বিশ্বের মুসলমানরা যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করছেন।
ঈদে মিলাদুন্নবী (বা মিলাদুন্নবী) হলো ইসলাম ধর্মের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শুভ আগমন বা জন্মদিবস উপলক্ষে মুসলিম বিশ্বে পালিত একটি উৎসব. হিজরি বর্ষপঞ্জির তৃতীয় মাস ১২ রবিউল আউয়াল তারিখে বিশ্বের বহু মুসলিম সম্প্রদায় অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই দিনটি উদযাপন করে থাকে।
হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনের মাধ্যমে মানবজাতি পেয়েছে শান্তি, ন্যায় ও মানবতার শিক্ষা।
তিনি সমগ্র মানবতার জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত হয়েছিলেন।
তাঁর জীবনাদর্শে রয়েছে সত্য, ন্যায়, ভ্রাতৃত্ব, ক্ষমা ও দয়ার অনন্য দৃষ্টান্ত।
তিনি অন্ধকার যুগের মানুষকে আলোর পথ দেখিয়েছেন।
নারীর অধিকার, এতিম-অসহায়ের প্রতি সহানুভূতি, দাসপ্রথার বিলুপ্তি এবং মানবাধিকারের যে শিক্ষা তিনি দিয়েছেন তা আজও সমগ্র বিশ্বের জন্য অনুকরণীয়।
পবিত্র দিনটি উপলক্ষে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও খানকায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, মিলাদ মাহফিল, দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
রাজধানী ঢাকা সহ দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় বের হয়েছে জশনে জুলুসে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। লাখো আশেকানে রাসুল (সা.) হাতে পতাকা ও কালেমার ব্যানার নিয়ে “নারায়ে রিসালাত”, “ইয়া নবী সালামু আলাইকা” ধ্বনিতে রাজপথ মুখরিত করছেন।
সরকারি ছুটির পাশাপাশি জাতীয় পতাকা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঈদে মিলাদুন্নবীর পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন সহ বিভিন্ন সংগঠন আজকের দিনের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা সভা ও সেমিনারের আয়োজন করেছে।
রাষ্ট্রপতি ও সরকার পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।
বাণীতে তারা মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন।
কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও দিনটি ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে,প্রতিটি মসজিদ,মাদ্রাসা,এতিমখানায় দোয়া হয়েছে।
জেলা শহরে বিশাল জশনে জুলুসরা পালন করছেন। মসজিদগুলোতে বিশেষ মোনাজাতে দেশ ও জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।
ধর্মীয় নেতারা বলছেন, ঈদে মিলাদুন্নবী শুধু আনন্দের দিন নয়।
এই দিন আমাদেরকে মহানবীর (সা.) ত্যাগ, সততা ও মানবতার শিক্ষা নিজেদের জীবনে বাস্তবায়নের শপথ নিতে হবে।
সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি ও হানাহানি ভুলে গিয়ে তাঁর দেখানো পথে চলাই হবে এই দিনের প্রকৃত উদযাপন।
