ঢাকা
১৪ জুলাই ২০২৬

পানি নামলেও কাটেনি দুর্ভোগ: রাঙামাটির আশ্রয়কেন্দ্রে এখনো সাড়ে ৩ হাজার মানুষ

বাংলাদেশ মিডিয়া প্রতিবেদক
সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬   ৪৯ বার পঠিত
পানি নামলেও কাটেনি দুর্ভোগ: রাঙামাটির আশ্রয়কেন্দ্রে এখনো সাড়ে ৩ হাজার মানুষ

টানা দুই সপ্তাহের ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যার তাণ্ডব শেষে রাঙামাটিতে পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হতে শুরু করেছে। নিম্নাঞ্চল থেকে বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ এখনো কাটেনি। পানি সরে যাওয়ার সাথে সাথেই ভেসে উঠছে ক্ষয়ক্ষতির একের পর এক ভয়াবহ চিত্র। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও জেলার বিভিন্ন উপজেলার ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে এখনো ৩ হাজার ৬৩৭ জন মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে অবস্থান করছেন।

​সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত বাগাইছড়ি
​এবারের বন্যায় জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাগাইছড়ি উপজেলা। উপজেলার সবকটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল। গত কয়েকদিন বৃষ্টি না হওয়ায় অধিকাংশ এলাকা থেকে পানি নেমে গেছে। তবে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ঘরবাড়ি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় এখনো বাগাইছড়ির ২৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় দেড় হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়ে আছেন। পানি পুরোপুরি নেমে যাওয়ার পর বিভিন্ন গ্রামে বসতঘর, বিঘার পর বিঘা কৃষিজমি, গ্রামীণ সড়ক ও অবকঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতচিহ্ন স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

​পানির নিচে ছিল ফারুয়া বাজার, চলছে ত্রাণ বিতরণ
​ক্ষয়ক্ষতির দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বিলাইছড়ি উপজেলার দুর্গম ফারুয়া ইউনিয়ন। বন্যার চরম শিখরে ফারুয়া বাজার সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিল। পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতের কারণে প্রথম কয়েকদিন জেলা বা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেখানে কোনো ত্রাণ পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমানে বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় দুর্গম এই এলাকায় পুরোদমে ত্রাণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।

​সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষদের পুনর্বাসন এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও অবকাঠামো মেরামতের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। জাহাঙ্গীর আলম বিশেষ প্রতিনিধি

Facebook Comments Box
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa