শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেছেন, শিশুদের জন্য বিনিয়োগ ও কাজ করা মানেই দেশের ভবিষ্যতের জন্য কাজ করা।
বুধবার সকালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে শিশু অধিকার দিবস ২০২৬ ও একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। ‘শিশুর স্বপ্নে ৫০ বছর: অর্জনে অভিজ্ঞতা ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে মন্ত্রী বক্তব্য দেন।
ড. মঈন খান বলেন, আজকের শিশুরাই আগামী দিনে দেশের পূর্ণ নাগরিক হয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেবে। তাদের সঠিকভাবে গড়ে তোলার দায়িত্ব শুধু শিশুদের নয়, বর্তমান প্রজন্মের ওপরও রয়েছে।
তিনি বলেন, শিশুরা যদি সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে ব্যর্থ হয়, তার দায় বর্তমান সমাজ ও রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। তাই দেশকে ভালোবাসার পাশাপাশি ভবিষ্যতে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে শিশুদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, শিশুদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তিনি অনেক আগেই উপলব্ধি করেছিলেন।
তিনি বলেন, শিশুরাই ভবিষ্যতে দেশের নেতৃত্ব দেবে। আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়ক ও নাগরিক হিসেবে তাদের প্রস্তুত করতে শিক্ষা, মূল্যবোধ ও সৃজনশীলতার বিকাশের সুযোগ দিতে হবে।
বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তিকে শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন মঈন খান। তিনি বলেন, অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিশুরা দেশের শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছে।
শিশুদের ভবিষ্যৎকে সৃষ্টির চাকার সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, পৃথিবী কখনো থেমে থাকে না। সৃষ্টির চাকা সবসময় সামনে এগিয়ে যায়। শিশুরাও সেই অগ্রযাত্রার অংশ। তাই ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাদের এখন থেকেই প্রস্তুত হতে হবে।
মন্ত্রী শিশুদের ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের সুনাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান। পাশাপাশি দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সেলিমা রহমান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালমা আক্তার এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক আরজু আরা বেগমসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন