ঢাকা
১৭ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
মুহুরী নদীর পানি বাড়ছে হু হু করে: বাঁধ ভাঙার আশঙ্কায় নির্ঘুম ফেনীবাসী ​ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হচ্ছে যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা নুরুল ইসলামকে ঢাকার পাশে ঘন ঘন ভূমিকম্প: বড় বিপদের আগাম বার্তা যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন সিলেটের মোহাম্মদ মাকসুদ আহমেদ তাহিরপুরে হত্যা করে লাশ গুমের ঘটনায় পলাতক আসামি নারায়ণগঞ্জে গ্রেফতার বিদ্যুৎ সাশ্রয় কর্মসূচি: ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিরল সূর্যগ্রহণে ইউরোপে উন্মাদনা হবিগঞ্জ কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় বিশাল ক্ষতিপূরণ পেতে যাচ্ছে ইরান চট্টগ্রাম শাহ আমানতে যৌথ অভিযান

রিসোর্স নাকি আমানত: প্রতিষ্ঠানের চোখে কর্মী আসলে কী?

বাংলাদেশ মিডিয়া প্রতিবেদক
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬   ১৪৯ বার পঠিত
রিসোর্স নাকি আমানত: প্রতিষ্ঠানের চোখে কর্মী আসলে কী?

অনেক সময় দেখা যায়, একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক মুসলিম, কর্মীদের বড় অংশও মুসলিম; কিন্তু প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পদ্ধতি, কর্মসংস্কৃতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধর্মীয় মূল্যবোধের তেমন প্রতিফলন নেই। এর কারণ কী?

কোনো প্রতিষ্ঠানে নামাজের ব্যবস্থা থাকতে পারে, আজানের ধ্বনি শোনা যেতে পারে, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কোরআন তেলাওয়াতও হতে পারে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের সময় ব্যবস্থাপনা, ভাষা, নেতৃত্বের ধরন, কর্মীদের মূল্যায়ন এবং সফলতার সংজ্ঞার দিকে তাকালে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রেই তা এমন একটি কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যার ভিত্তি ভিন্ন একটি বিশ্বদৃষ্টিতে তৈরি।

বাস্তবে কোনো ব্যবস্থাপনা কাঠামোই পুরোপুরি নিরপেক্ষ নয়। প্রতিটি ব্যবস্থার পেছনে থাকে একটি নির্দিষ্ট চিন্তা ও দর্শন। প্রশ্ন হলো—সেই কাঠামো মানুষকে কীভাবে দেখে? একজন মানুষ কি শুধু প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতার একটি উপাদান, নাকি আল্লাহর সৃষ্ট সম্মানিত একজন বান্দা?

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, আধুনিক ব্যবসায়িক কাঠামোর অনেক ধারণা শিল্পবিপ্লব ও পশ্চিমা অর্থনৈতিক চিন্তার ধারায় গড়ে উঠেছে। মুসলিম সমাজের অনেক প্রতিষ্ঠানও পরবর্তীতে এসব মডেল গ্রহণ করেছে। তবে অন্য সংস্কৃতি থেকে জ্ঞান গ্রহণের ক্ষেত্রে মূল চ্যালেঞ্জ হলো—নিজস্ব মূল্যবোধের আলোকে তা যাচাই ও প্রয়োগ করা।

ইসলামি ঐতিহ্যে জ্ঞানকে মূল্যবান সম্পদ হিসেবে দেখা হয়েছে। তাই বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে উপকারী জ্ঞান গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে সেই জ্ঞানকে নিজেদের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

একজন কর্মীকে শুধু ‘মানবসম্পদ’ হিসেবে দেখার পরিবর্তে আল্লাহর দেওয়া একটি আমানত হিসেবে বিবেচনা করলে প্রতিষ্ঠানের নীতি ও সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আসতে পারে। নিয়োগ, বেতন, কর্মপরিবেশ, ছাঁটাই এবং সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে তখন মানবিকতা ও ন্যায়বিচার আরও গুরুত্ব পাবে।

একটি মূল্যবোধভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের কিছু বৈশিষ্ট্য হতে পারে—

কর্মঘণ্টা এমনভাবে নির্ধারণ করা, যাতে ধর্মীয় দায়িত্ব পালনে বাধা না আসে।

  • শুধু মুনাফা নয়, নৈতিকতা ও কল্যাণকে গুরুত্ব দেওয়া।
  • নেতৃত্বকে কর্তৃত্ব নয়, সেবার দায়িত্ব হিসেবে দেখা।
  • কর্মীদের মানসিক ও আত্মিক কল্যাণের প্রতিও যত্নশীল হওয়া।
  • গ্রাহক ও অংশীদারদের সঙ্গে সততা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তোলা।

সমস্যা জ্ঞান গ্রহণে নয়; সমস্যা হলো নিজের মূল্যবোধের আলোকে তা বিশ্লেষণ না করে অন্ধভাবে অনুসরণ করা। অতীতে মুসলিম মনীষীরা বিভিন্ন সভ্যতার জ্ঞান গ্রহণ করে তা নিজেদের চিন্তা ও দর্শনের সঙ্গে সমন্বয় করেছিলেন।

আধুনিক ব্যবসা ও অর্থনীতিকে নৈতিকতা, মানবিকতা ও আল্লাহর প্রতি জবাবদিহিতার চেতনার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে একটি প্রতিষ্ঠান শুধু আর্থিকভাবে সফল হবে না, সমাজের জন্যও কল্যাণকর ভূমিকা রাখতে পারবে।

এ ধরনের পরিবর্তনের জন্য উদ্যোক্তা, গবেষক, আলেম ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সম্মিলিত চিন্তা ও উদ্যোগ প্রয়োজন। কারণ একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সাফল্য শুধু লাভের অঙ্কে নয়, মানুষের কল্যাণ ও নৈতিক অবস্থানেও পরিমাপ করা হয়।

Facebook Comments Box
Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa