ঢাকা
২১ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
মুহুরী নদীর পানি বাড়ছে হু হু করে: বাঁধ ভাঙার আশঙ্কায় নির্ঘুম ফেনীবাসী ​ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হচ্ছে যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা নুরুল ইসলামকে ঢাকার পাশে ঘন ঘন ভূমিকম্প: বড় বিপদের আগাম বার্তা যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন সিলেটের মোহাম্মদ মাকসুদ আহমেদ তাহিরপুরে হত্যা করে লাশ গুমের ঘটনায় পলাতক আসামি নারায়ণগঞ্জে গ্রেফতার বিদ্যুৎ সাশ্রয় কর্মসূচি: ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিরল সূর্যগ্রহণে ইউরোপে উন্মাদনা হবিগঞ্জ কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় বিশাল ক্ষতিপূরণ পেতে যাচ্ছে ইরান চট্টগ্রাম শাহ আমানতে যৌথ অভিযান

রাকসু তহবিল থেকে ২৪ লাখ টাকা তুলেছেন জিএস, হিসাব নেই ১৮ লাখ

ডা: মো: হাফিজুর রহমান (পান্না), রাজশাহী ব্যুরো

বাংলাদেশ মিডিয়া প্রতিবেদক
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬   ৩৪ বার পঠিত
রাকসু তহবিল থেকে ২৪ লাখ টাকা তুলেছেন জিএস, হিসাব নেই ১৮ লাখ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) বর্তমান পরিষদ ৪২টি কর্মসূচির বিপরীতে তহবিল থেকে এক কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা নিলেও খরচের বিল-ভাউচার ঠিকভাবে জমা দেননি।

এর মধ্যে ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকার কোনও বিল-ভাউচার এখনও জমা হয়নি। যদিও তিনটি ইভেন্টের কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।

তবে ৩৯টি কর্মসূচি শেষ হয়েছে এক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস আগে।

কসুর কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ের নথি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এর মধ্যে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মার ২৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা নিলেও ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার বিল-ভাউচার এখনও জমা দেননি।

ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ ১৩ লাখ ৪০ হাজার ৩২৪ টাকা নিলেও ১২ লাখ ৪০ হাজার ৪০০ টাকার ব্যয়ের হিসাব জমা দেননি।

শুধু ভিপি জিএস নন, আর্থিক হিসাব না দেয়ার তালিকায় রয়েছেন রাকসুর এজিএস ও ৮ জন সম্পাদকের বিরুদ্ধে।

রাকসুর টাকা খরচের হিসেব দিতে দীর্ঘদিন ধরেই অনীহা প্রকাশ করছেন ছাত্র প্রতিনিধিরা।

রাকসুর ব্যয়ের বিবরণি সংক্রান্ত কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ের একটি নথি হাতে এসেছে।

নথি বিশ্লেষণে দেখা গেছে রাকসু নেতাদের আর্থিক হিসাব নিয়ে নানা স্বেচ্ছাচারিতা।

জিএস আম্মার মেলাতে পারেননি ১৮ লাখ টাকার হিসাব।

রাকসুর সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ গিয়েছে জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের হাত দিয়ে।

তিনি সাত ধাপে ২৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা নিয়েছেন।

এর মধ্যে তিন ধাপের ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকা খরচের কোনও ভাউচার জমা দেননি।

এই টাকার মধ্যে রয়েছে গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় বুথ স্থাপনের জন্য ৩ লাখ ২ হাজার, চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারিতে রাকসু সদস্যদের (জানুয়ারি/২৬) বাজেট বাবদ ১৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকা, ১৩ এপ্রিল এক লাখ ৬০ হাজার টাকা নেওয়া হয় রাকসু সদস্যদের দাফতরিক খরচের জন্য।

 বিষয়ে জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘রাকসুর ছয় সম্পাদকের মধ্যে পাঁচ জন ভাউচার জমা দিয়েছেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদকের ৮৫ হাজার টাকার ভাউচার বাকি থাকায় পুরো ১৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকাকেই পেন্ডিং দেখানো হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘সিনেট ও হল প্রতিনিধি সম্মেলনের ৩ লাখ এবং আপ্যায়ন বাবদ ৩ লাখ ২০ হাজার টাকার ভাউচার আগেই জমা দেওয়া হয়েছে।’
আম্মারের দাবি, ‘ভর্তি পরীক্ষার বুথের জন্য পাওয়া ৩ লাখ ২ হাজার টাকা রাকসু ফান্ডের নয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দেওয়া।

এ অর্থের ভাউচারে প্রায় ৪৫-৪৬ হাজার টাকা ভ্যাটের বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন ও রাকসুর মধ্যে সমন্বয় না হওয়ায় সেটি ঝুলে আছে।’

তার দাবি, ‘আমার কাছে আসা সব ভাউচার জমা দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিটি অর্থ উত্তোলনে উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের অনুমোদন নিতে হয়েছে।

তাই পুরো অর্থকে পেন্ডিং দেখানো বিভ্রান্তিকর।’

রাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেতাউর রহমান বলেন, ‘যেকোনও কর্মসূচি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভাউচার জমা দেওয়া উচিত।

রাকসুর কিছু ভাউচার বিল এখনও জমা হয়নি। আমরা তাদেরকে সঠিক নিয়মে জমা দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমার নজরে এসেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, নতুন কোনও বরাদ্দ বা বাজেট নেওয়ার আগের গৃহীত অর্থের ভাউচার জমা দিয়ে তা অ্যাডজাস্ট (সমন্বয়) করতে হয়।

রাকসু কোষাধ্যক্ষকে আমি বিষয়টি ইতিপূর্বেও নির্দেশ দিয়েছি যেন আগের হিসাবগুলো দ্রæত সমন্বয় করা হয়।

দীর্ঘদিনের এক বড় অঙ্কের অর্থ এভাবে অসমন্বিত অবস্থায় রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি বর্তমানে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাজে ঢাকায় অবস্থান করছি।

রাজশাহী ফিরে রাকসু কোষাধ্যক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি আরও জোরদার মনিটরিং করা হবে, যেন দ্রæত এই হিসাবের সমন্বয় ঘটে।

রাকসু কোষাধ্যক্ষের প্রাথমিক দায়িত্ব হলেও, রাকসুর সভাপতি হিসেবে এ বিষয়ে মনিটরিং করার দায়িত্ব আমারও রয়েছে এবং আমি তা পর্যবেক্ষণ করছি।

গত বছরের ১৬ অক্টোবর রাকসুর ভোট হয়েছিল।

যেখানে কেন্দ্রীয় সংসদে ২৩ পদের বিপরীতে ২০টিতেই জয় পেয়েছিল শিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা।

জিএস, ক্রীড়া এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে অন্য প্যানেলের প্রার্থীরা জয়লাভ করেছিলেন।

Facebook Comments Box
Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa