ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস দিচ্ছে সাম্প্রতিক জনমত জরিপ ও বিভিন্ন প্রেডিকশন মার্কেট। আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে তিনি আবারও ক্ষমতায় ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা, গাজা যুদ্ধ এবং ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের মতো একাধিক সংকটের মধ্য দিয়ে নেতানিয়াহুর সরকার মেয়াদ শেষ করেছে। গত ১৭ জুলাই নির্ধারিত মেয়াদ শেষে বিলুপ্ত হয়েছে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট।
নির্বাচনে নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছেন সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকোট। মাত্র এক বছর আগে গঠিত মধ্যপন্থি সিওনিস্ট দল ইশারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি।
প্রেডিকশন মার্কেটের হিসাবে, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনায় নেতানিয়াহুর চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন আইজেনকোট। পলিমার্কেটে আইজেনকোটের সম্ভাবনা প্রায় ৪৮ শতাংশ, যেখানে নেতানিয়াহুর ৩৫ থেকে ৩৬ শতাংশ। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের সম্ভাবনা প্রায় ১০ শতাংশ এবং আবিগডোর লিবারম্যানের ২ শতাংশের কম।
কালশি প্রেডিকশন মার্কেটেও একই ধরনের চিত্র দেখা যাচ্ছে। সেখানে আইজেনকোটের পক্ষে ৪৯ শতাংশ এবং নেতানিয়াহুর পক্ষে ৩৪ শতাংশ সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে। বেনেট রয়েছেন ৮ শতাংশে।
তবে জনমত জরিপের ফল প্রেডিকশন মার্কেটের তুলনায় অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। বিভিন্ন জরিপে আইজেনকোটের ইশার ও নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি প্রায় সমান অবস্থানে রয়েছে। দুই দলই গড়ে ২১ থেকে ২৩টি আসন পেতে পারে বলে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে।
অন্যদিকে নাফতালি বেনেটের দল প্রায় ১১টি আসন, ইয়ার গোলানের দ্য ডেমোক্র্যাটস ৯ থেকে ১০টি, লিবারম্যানের ইসরায়েল বেইতেনু ৮ থেকে ৯টি এবং বেন-গভীরের ওৎজমা ইহুদিত প্রায় ৮টি আসন পেতে পারে।
কান, এন১২ ও চ্যানেল ১৩-এর সাম্প্রতিক জরিপেও আইজেনকোটকে নেতানিয়াহুর সমান বা কিছুটা এগিয়ে দেখা যাচ্ছে। তবে সরকার গঠনের সমীকরণে কোনো পক্ষের জন্যই পরিস্থিতি সহজ নয়।
ইসরায়েলের নেসেটে মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১টি আসন। বিদায়ী জোটের দলগুলো মিলিয়ে ৫১ থেকে ৫৪টি আসন পেতে পারে বলে অধিকাংশ জরিপের পূর্বাভাস। বিরোধী সিওনিস্ট দলগুলোর আসনও ৫০ থেকে ৫৫টির মধ্যে থাকতে পারে। আরব দলগুলো পেতে পারে প্রায় ১৩টি আসন।
ফলে নির্বাচনের পর সরকার গঠনে জোট ও রাজনৈতিক সমঝোতাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। নেতানিয়াহু শেষ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবেন কি না, তা শুধু লিকুদের আসনসংখ্যার ওপর নয়, নির্বাচনের পর বিভিন্ন দলের সঙ্গে জোট গঠনের সক্ষমতার ওপরও নির্ভর করবে।

মন্তব্য করুন