ঢাকা
১৭ আগস্ট ২০২৬
শিরোনাম
মুহুরী নদীর পানি বাড়ছে হু হু করে: বাঁধ ভাঙার আশঙ্কায় নির্ঘুম ফেনীবাসী ​ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হচ্ছে যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা নুরুল ইসলামকে ঢাকার পাশে ঘন ঘন ভূমিকম্প: বড় বিপদের আগাম বার্তা যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন সিলেটের মোহাম্মদ মাকসুদ আহমেদ তাহিরপুরে হত্যা করে লাশ গুমের ঘটনায় পলাতক আসামি নারায়ণগঞ্জে গ্রেফতার বিদ্যুৎ সাশ্রয় কর্মসূচি: ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিরল সূর্যগ্রহণে ইউরোপে উন্মাদনা হবিগঞ্জ কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় বিশাল ক্ষতিপূরণ পেতে যাচ্ছে ইরান চট্টগ্রাম শাহ আমানতে যৌথ অভিযান

কোরআনে শাব্দিক পুনরাবৃত্তি: ‘মুতাশাবিহ’ আয়াতের অন্তর্নিহিত রহস্য

বাংলাদেশ মিডিয়া প্রতিবেদক
সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬   ১২৬ বার পঠিত
কোরআনে শাব্দিক পুনরাবৃত্তি: ‘মুতাশাবিহ’ আয়াতের অন্তর্নিহিত রহস্য

কোরআন পড়তে গিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে—একই বিষয় বা ঘটনা বিভিন্ন সূরায় বারবার কেন এসেছে? কেন কিছু আয়াত প্রায় একই শব্দ ও বাক্যগঠনে একাধিক স্থানে বর্ণিত হয়েছে?

উলুমুল কোরআনের পরিভাষায় এ বিষয়টিকে বলা হয় ‘আল-মুতাশাবিহ আল-লাফজি, অর্থাৎ শাব্দিক সাদৃশ্য। তবে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই সাদৃশ্যের মধ্যেও রয়েছে এক বিশেষ ভাষাশৈলী ও সূক্ষ্ম বিন্যাস।

একই ধরনের আয়াতের মধ্যে কোথাও শব্দের সামান্য পরিবর্তন, কোথাও শব্দের স্থান পরিবর্তন, আবার কোথাও বাক্যগঠনের ভিন্নতা দেখা যায়। কোরআনের ভাষাবিশারদদের মতে, এসব পরিবর্তন আকস্মিক নয়; বরং প্রতিটি শব্দের ব্যবহার সংশ্লিষ্ট আয়াতের প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

মানুষের লেখায় একই বক্তব্য বারবার এলে তা অনেক সময় একঘেয়েমি হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু মুসলিম গবেষকদের মতে, কোরআনের সাদৃশ্যপূর্ণ আয়াতগুলোর পুনরাবৃত্তির মধ্যেও রয়েছে আলাদা তাৎপর্য ও গভীর অর্থ।

ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে গবেষকেরা কয়েকটি বিষয়কে গুরুত্ব দেন। প্রথমত, কোনো শব্দের অবস্থান ও পারিপার্শ্বিক শব্দের সঙ্গে তার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়। কেন একটি স্থানে একটি শব্দ আগে এসেছে এবং অন্য স্থানে পরে এসেছে—এর মধ্যেও বিশেষ তাৎপর্য খোঁজা হয়।

দ্বিতীয়ত, প্রতিটি সূরার নিজস্ব একটি মূল বক্তব্য বা উদ্দেশ্য রয়েছে। একই ধরনের আয়াতকে সেই সূরার সামগ্রিক বক্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে এর ভিন্ন দিকগুলো স্পষ্ট হয়।

তৃতীয়ত, শব্দের ধ্বনি ও ভাষার প্রকাশভঙ্গিও প্রেক্ষাপট অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। কঠিন পরিস্থিতির বর্ণনায় ভাষা দৃঢ় হয়, আবার দয়া, ক্ষমা ও রহমতের প্রসঙ্গে ভাষা হয় কোমল। (আবু জাফর ইবনুজ জুবাইর আল-গারনাতি, মিলাকুত তাবিল)

কোরআনের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রেও মুসলিম পণ্ডিতদের মধ্যে একটি মত রয়েছে যে, একটি আয়াতের একাধিক গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা থাকতে পারে। এসব ব্যাখ্যা পরস্পরকে বাতিল না করে বরং আয়াতের বিভিন্ন দিককে তুলে ধরতে পারে।

কোরআনের ভাষাশৈলী নিয়ে ঐতিহাসিকভাবে আলোচিত একটি ঘটনা হলো কোরাইশ নেতা ওলিদ ইবনুল মুগিরার বক্তব্য। কোরআন শুনে তিনি এর ভাষার প্রভাব ও সৌন্দর্য সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন বলে ইসলামী ঐতিহ্যে উল্লেখ পাওয়া যায়। (ইবনে কাসির, তাফসিরুল কুরআনিল আজিম)

কোরআনের প্রভাব থেকে মানুষকে দূরে রাখতে কোরাইশ নেতারা কোরআন পাঠের সময় হট্টগোল করার নির্দেশ দিয়েছিল বলেও কোরআনে উল্লেখ রয়েছে। (সুরা ফুসসিলাত, আয়াত ২৬)

আধুনিক যুগেও কোরআনের পুনরাবৃত্ত আয়াত নিয়ে আলোচনা রয়েছে। মুসলিম ভাষাবিশারদদের মতে, প্রতিটি সাদৃশ্যপূর্ণ আয়াতের পেছনে রয়েছে নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য।

কোরআনে বলা হয়েছে, “নিশ্চয়ই আমিই কোরআন নাজিল করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক।” (সুরা হিজর, আয়াত ৯)

মুসলিম বিশ্বাস অনুযায়ী, কোরআনের ভাষাগত সূক্ষ্মতা ও বিন্যাস এর বিশেষত্বের একটি দিক। একই আয়াত বারবার পড়লেও নতুন উপলব্ধি ও চিন্তার সুযোগ তৈরি হওয়াই এই ভাষাশৈলীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

Facebook Comments Box
Advertise with us
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa