পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) সাবেক প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. মনিরুল ইসলাম এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে দুটি মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির উপপরিচালক মো. মোজাম্মিল হোসেন এ তথ্য জানান।
দুদকের অনুসন্ধানে মনিরুল ইসলামের শ্যালক রেজাউল আলম শাহীনের নামে ২৩ কোটি ৩২ লাখ টাকার বেশি নিট সম্পদ এবং ৪০টি ব্যাংক হিসাবে এক হাজার ৪৭ কোটি টাকার বেশি লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। সংস্থাটির দাবি, এসব সম্পদের সঙ্গে তার বৈধ আয়ের সামঞ্জস্য পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধান অনুযায়ী, ২০১৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রেজাউল আলম শাহীনের ৪০টি ব্যাংক হিসাবে ৫২৯ কোটি ৯২ লাখ টাকার বেশি জমা এবং ৫১৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকার বেশি উত্তোলন হয়েছে। জমা ও উত্তোলন মিলিয়ে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় এক হাজার ৪৭ কোটি ২৮ লাখ টাকা।
দুদকের অভিযোগ, মনিরুল ইসলাম পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বৈধ করার উদ্দেশ্যে শ্যালকের নামে সম্পদ ও ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করেছেন। এ অভিযোগে মনিরুল ইসলাম, তার স্ত্রী সাবেক অতিরিক্ত সচিব সায়লা ফারজানা এবং রেজাউল আলম শাহীনকে আসামি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় মামলাটি করা হবে রেজাউল আলম শাহীনের স্ত্রী সানজিদা খানম টুম্পার নামে থাকা সম্পদ ও ব্যাংক লেনদেনের বিষয়ে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, তার নামে ১২ কোটি ৯৭ লাখ ৫৯ হাজার টাকার বেশি নিট সম্পদ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১২ কোটি ৩০ লাখ ৪৯ হাজার টাকার বেশি সম্পদের বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া ২০১৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তার নামে থাকা ২৭টি ব্যাংক হিসাবে ৩৩ কোটি ১০ লাখ টাকার বেশি জমা এবং ২৫ কোটি ৫১ লাখ টাকার বেশি উত্তোলনের তথ্য পেয়েছে দুদক। এসব হিসাবে মোট লেনদেনের পরিমাণ ৫৮ কোটি ৬২ লাখ টাকার বেশি।
দ্বিতীয় মামলাতেও মনিরুল ইসলাম, তার স্ত্রী সায়লা ফারজানা, রেজাউল আলম শাহীন ও সানজিদা খানম টুম্পাকে আসামি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দুদক জানিয়েছে, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর প্রযোজ্য ধারায় মামলা করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অভিযোগগুলো অনুসন্ধানভিত্তিক; মামলার মাধ্যমে সেগুলোর আইনি নিষ্পত্তি হবে।

মন্তব্য করুন