বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার সম্ভাব্য ত্রিপক্ষীয় সম্মেলন। আগামী মাসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রস্তাবিত এ সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয় হতে পারে পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ ও নিরস্ত্রীকরণ।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন নেতার সম্ভাব্য বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের চেয়ে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ বেশি গুরুত্ব পেতে পারে। তবে সম্মেলনের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এর আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, পুতিন ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সম্মেলনের প্রস্তাব দিয়েছেন। চার বছর ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আলোচনার পথ তৈরি করাও এ উদ্যোগের একটি লক্ষ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তিন পরাশক্তির নেতাদের এমন বৈঠক বাস্তবায়িত হলে তা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হয়ে উঠতে পারে। কারণ, পারমাণবিক অস্ত্রের সংখ্যা কমানোর বিষয়ে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর আগ্রহ ট্রাম্প আগেও প্রকাশ করেছেন। তবে এ উদ্যোগে এখন পর্যন্ত মস্কো ও বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি চীনের শেনঝেনে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার (এপেক) নেতাদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে যোগ দিতে চীন সফর করবেন ট্রাম্প। এই সফরের সময় ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে চীন সরকার এখনো এ ধরনের সম্মেলনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
সোমবার ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প জানান, তিনি তিন নেতার বৈঠক আয়োজন করতে আগ্রহী। তবে তার ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য হবে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা, ইউক্রেন যুদ্ধ নয়।
এখন দেখার বিষয়, ওয়াশিংটন, মস্কো ও বেইজিং শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে বসতে সম্মত হয় কি না। বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, বৈশ্বিক নিরাপত্তা এবং তিন পরাশক্তির সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন কূটনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

মন্তব্য করুন