ইউরোপে অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা চাইছে গ্রিস ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। বিশেষ করে লিবিয়া ও মিসর হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে প্রবেশের চেষ্টা বন্ধে বাংলাদেশ ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে চায় দেশটি। গ্রিক সংবাদমাধ্যম কাথিমেরিনির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক কয়েক দিনে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে এক হাজারের বেশি অভিবাসী পৌঁছেছেন। তাঁদের অনেকে দ্বীপটির দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের ইয়ারাপেত্রা এলাকায় অবতরণ করেন। এতে উত্তর আফ্রিকা থেকে ক্রিটে পৌঁছানোর সমুদ্রপথ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে গ্রিক কর্তৃপক্ষের মধ্যে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত গ্রিসে অভিবাসীদের আগমন প্রায় ৬২ হাজার থেকে কমে ৪২ হাজারে নেমেছে। তবে সামগ্রিকভাবে আগমন কমলেও লিবিয়া থেকে ক্রিটে প্রবেশের পথটি এখনো গ্রিসের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। লিবিয়ায় পাঁচ লাখের বেশি শরণার্থী ও অভিবাসী অবস্থান করছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গ্রিক কর্তৃপক্ষের উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে বাংলাদেশি নাগরিকদের উত্তর আফ্রিকায় পৌঁছানোর বিভিন্ন পথ। বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে মিসরের কায়রো এবং লিবিয়ার বেনগাজি ও ত্রিপোলিগামী ফ্লাইট ব্যবহার করে যাতায়াতের বিষয়টি নজরে রাখছে তারা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অভিবাসীদের পরিচয় শনাক্ত করা এবং তাঁদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে পাঠানোর ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সমন্বয় চলছে। এ জন্য চার্টার ফ্লাইট পরিচালনার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া আশ্রয়প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার সম্ভাব্য ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ ধরনের পদক্ষেপের পরিধি, বাস্তবায়ন কিংবা কাদের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

গ্রিক কর্তৃপক্ষের মতে, উত্তর আফ্রিকা থেকে সমুদ্রপথে অভিবাসীদের আগমন নিয়ন্ত্রণে লিবিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। তবে লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা না পাওয়ায় এ প্রচেষ্টা জটিল হয়ে উঠছে।

এ পরিস্থিতিতে অনিয়মিত অভিবাসন মোকাবিলা, পরিচয় যাচাই এবং প্রত্যাবাসন কার্যক্রম জোরদার করতে বাংলাদেশ, উপসাগরীয় দেশ ও উত্তর আফ্রিকার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় গ্রিস ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।