মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধের উদ্যোগের মধ্যেই রাশিয়ায় বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। শনিবার রাত থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত চালানো এ হামলায় সেন্ট পিটার্সবার্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় একজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আবাসিক ভবন ও একটি সরবরাহকেন্দ্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, ওই রাতে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ইউক্রেনের ছোড়া ১ হাজার ১৫টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে এ দাবির বিস্তারিত স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
সম্প্রতি রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছিলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন পরস্পরের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। তবে মস্কো ও কিয়েভ আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো সমঝোতার কথা নিশ্চিত করেনি।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের দাবি, আগের ২৪ ঘণ্টায় রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দেশটিতে ১১ জন নিহত এবং প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন। ওডেসা অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাও হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে কিয়েভ।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, এক সপ্তাহে রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি, তেল ও গ্যাস খাতে ৭৬ বার হামলা চালিয়েছে।
এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার জ্বালানি আমদানির ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা কমে গেলে আসন্ন শীতে রুশ হামলা মোকাবিলা করা কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ইউক্রেন। পাল্টাপাল্টি হামলা ও আন্তর্জাতিক নীতিগত টানাপোড়েনে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

মন্তব্য করুন