পিরোজপুরের নাজিরপুরে কালীগঙ্গা নদীতে খেয়া ট্রলার ডুবে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার মা রিনা ব্যাপারী (৩৮) এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। পূজা দেখে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে এ দুর্ঘটনার শিকার হন শংকর ব্যাপারী। তিনি সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও বাঁচাতে পারেননি স্ত্রী ও মেয়েকে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠি খেয়াঘাটসংলগ্ন কালীগঙ্গা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রলারটি যাত্রী নিয়ে নেছারাবাদ উপজেলার ভরতকাঠি খেয়াঘাটের দিকে যাওয়ার সময় উল্টে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ট্রলারটিতে ৮০ জনের বেশি যাত্রী ও ছয়টি মোটরসাইকেল ছিল। ট্রলারটি ডুবে গেলে যাত্রীরা নদীতে পড়ে যান। অনেকেই সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও নিখোঁজ হন শংকর ব্যাপারীর স্ত্রী ও মেয়ে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। প্রায় চার ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান চালানোর পর ১৩ বছর বয়সী আর্দ্রিতার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে তার মা রিনা ব্যাপারীর সন্ধান এখনও মেলেনি। নিখোঁজের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য ফোরকান গাজী জানান, মা-মেয়ে নেছারাবাদের ভরতকাঠি গ্রামের বাসিন্দা। সোমবার বিকেলে তারা শ্রীরামকাঠিতে দুর্গাপূজা দেখতে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও জানান, ওই ঘাটে দিনে ১০ থেকে ১২টি খেয়া ট্রলার চলাচল করলেও রাত ৮টার পর সাধারণত একটি ট্রলার থাকে। পূজার সময় যাত্রীদের চাপ বিবেচনায় রাতে অতিরিক্ত ট্রলারের ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন ছিল বলে মনে করেন তিনি।
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, অতিরিক্ত যাত্রী ও মোটরসাইকেল বোঝাইয়ের কারণে ট্রলারটি ডুবে যাওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। দুর্ঘটনাটি নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠি এলাকায় ঘটেছে। কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হলেও তার মা এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
এদিকে নিখোঁজ রিনা ব্যাপারীর সন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

মন্তব্য করুন