লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর পরিচালিত পৃথক পাঁচটি বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় কসমেটিক্স, শাড়ি ও মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। চলমান চোরাচালান ও মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চোরাচালান প্রতিরোধে (২৭ ও ২৮ মার্চ) বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে ২৭ মার্চ বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে ফুলবাড়ি ফেলানি মোড়, রাত ৮টা ১৫ মিনিটে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ফেরেস্তার মোড়, রাত ৩টা ১০ মিনিটে হলার মোড়, রাত ৩টা ৪৫ মিনিটে লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা উপজেলার খামারভাতি আজ ২৮ মার্চ সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে ফুলবাড়ী উপজেলার ভেন্নিতলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান চলাকালে টহল দলের সদস্যরা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ধাওয়া করলে চোরাকারবারীরা তাদের বহনকৃত মালামাল ফেলে দ্রুত সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ভারতীয় ফেসওয়াশ ৯৭০টি, সর্ন কাতান শাড়ি ৮৫টি, জামদানি শাড়ি ৩টি, সিল্ক শাড়ি ৫টি, লেহেঙ্গা ২টি, প্যান্টের কাপড় ১০টি এবং ইস্কাফ সিরাপ ৯৯ বোতল জব্দ করা হয়।

জব্দকৃত এসব পণ্যের মোট মূল্য প্রায় ১১ লাখ ৮৩ হাজার ৪০০ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি। এর মধ্যে কসমেটিক্সের মূল্য ১ লাখ ৯৮ হাজার ৮০০ টাকা, সর্ন কাতান শাড়ি ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা, জামদানি শাড়ি ৩০ হাজার টাকা, সিল্ক শাড়ি ২৫ হাজার টাকা, লেহেঙ্গা ১০ হাজার টাকা, প্যান্টের কাপড় ৩০ হাজার টাকা এবং ইস্কাফ সিরাপের মূল্য ৩৯ হাজার ৬০০ টাকা।

বিজিবি জানায়, জব্দকৃত মালামাল যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত আছে।

লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম (পিএসসি) বলেন, দেশের যুবসমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। তিনি বলেন, চোরাচালান ও মাদক প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।