দেশের অন্যান্য জেলার ন্যায় কুড়িগ্রামে নদী খনন কার্যক্রম ২০২৩/২০২৪ ইং সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত কাজ চলমান রয়েছে। নদী খনন কার্যক্রম কাজ সাধারণত ৬ মাস বন্ধ থাকলে বাকি ৬ মাস চলমান থাকে। বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মারুফ এর নিকট থেকে জানা যায়, কুড়িগ্রাম জেলায় প্রায় ৪৫০ কোটি টাকার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, এই কার্যক্রমের চলমান প্রক্রিয়া প্রায় দুই বছর ছয় মাস চলাকালীন অবস্থায় এখনও এর কার্যক্রম নিয়ে কোন প্রকার কাগজপত্রের কোন ডকুমেন্ট পাওয়া যায়নি। সেখানে মূলত কত ফিট গভীর বা কত ফিট দৈর্ঘ্য, প্রস্থ বা কত টাকার নদী খননের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জেলা হিসেবে কুড়িগ্রাম সদরে নেই কোন অফিস। একটি ব্যক্তিকে ফোন করে কোথাও পাওয়া যায় না। কোন ডকুমেন্ট দেখতে চাইলে খননকৃত লোকজন বলেন আমরা কিছুই জানি না, অফিস জানতে চাইলে তারা বলেন অফিস ঢাকায়। জানা যায় এই প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী তিনিও ঢাকায় অবস্থান করেন।

বিভিন্ন তথ্যের মাধ্যমে জানা যায়, কুড়িগ্রাম সদরে ছয়টি ড্রেজিং কোম্পানি কাজ করে আসছে। সেগুলো হলো নবারন ড্রেজিং লিমিটেড, একোয়া মেরিন ড্রেজিং লিমিটেড, এম এম বিল্ডার্স লিমিটেড, এম এম বাঁশখালী লিমিটেড এবং চাকন্দ ড্রেজিং লিমিটেড সহ আরো অন্যান্য। ২ বছর ৬ মাস থেকে ড্রেজিং কাজ করা হলেও তার সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলে জানান এলাকাবাসী। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ঘটনা সত্য। তারা নদী খনন করে কোথাও নদীর বালু নদীতে রাখছে আবার কোথাও নদীর পাড়ে বালু রাখছে, যা দৃশ্যমান।

স্থানীয়রা জানায়, গত দুই বছর তাদের এসব কার্যক্রম দেখে আসছে। আবারো তারা একই ভাবে নদী ও নদীর পাড়ে বালু রেখে আসছে, এ খনন কার্যক্রম সিএমবি মোড় ধরলা সেতুর উত্তরে নদীর পাড়ে, হলোখানা পলাশবাড়ী নদীর পাড়ে এবং মোগলবাসা ইউনিয়নের নদীর মাঝে ও নদীর পাড়ে যা এখনই ভেঙে পড়ছে সেটিও দৃশ্যমান ।

ওই এলাকার বাসিন্দারা ও নৌকার মাঝিরা অভিযোগ করে বলেন, গত বছরে যে বালু গুলো ড্রেজিং করে পাড়ে রাখা হয়েছিল তা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আবারও সেই জায়গায় বালু ফেলা হচ্ছে। এতে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মিজ্ অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, আমি বিষয়টি দেখতেছি। এবং জেলা প্রশাসক তিন দিনের মধ্যে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইসমাইল হোসেনকে তদন্তের নির্দেশ দেন। তিনি তদন্ত করেন এবং সঠিক জায়গায় বালু ফেলার নির্দেশ দেন। নির্দেশনার পরেও পুনরায় নদী খনন কর্তৃপক্ষের লোকজন নির্দেশনা তোয়াক্কা না করে আবার নদীর ধারে ও নদীতে বালু ফেলে।

এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএ ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মারুফ বলেন, এই প্রকল্প ৪৫০ কোটি টাকার গত ২ বছর থেকে বাস্তবায়ন হয়ে আসছে। তার সঙ্গে বালু কিভাবে কত মিটার বা কত ফিট দূরে ফেলানো হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা বালু ফেলার জায়গা পাচ্ছি না, তার কারণে এদিক ও অধিক ফেলা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার সাধারণ জনগণ এই নদী খননের কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসককে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন।