আন্তর্জাতিক বাজারে দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ার পর আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে সোনার দাম। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মার্কিন ডলারের দর কিছুটা কমে যাওয়ায় মূল্যবান ধাতুটির দাম বাড়তে শুরু করে।

এদিন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ০.৭ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ১৪১ দশমিক ০৯ ডলারে উঠেছে। এর আগে বুধবার সোনার দাম ৫ আগস্টের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল।

শক্তিশালী ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের সুদের হার বেড়ে যাওয়াই মূলত আগের দরপতনের অন্যতম কারণ ছিল। তবে ডলারের দাম কিছুটা কমায় অন্যান্য মুদ্রায় লেনদেনকারী ক্রেতাদের জন্য সোনা তুলনামূলক সস্তা হয়েছে। এতে বাজারে চাহিদা বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এদিকে ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য মার্কিন সোনার দামও ০.৬ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ১৬৫ দশমিক ১০ ডলারে পৌঁছেছে।

বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান পেপারস্টোনের গবেষণা বিভাগের প্রধান ক্রিস ওয়েস্টনের মতে, স্বল্পমেয়াদে সোনার বাজার এখনো কিছুটা চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে। তবে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ২৭৫ ডলারের ওপরে উঠতে পারলে বাজারে আরও শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার আভাস মিলতে পারে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা চলছে। চলতি মাসে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা খুব কম হলেও ডিসেম্বরে তা বাড়ানোর সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি।

বাজারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, অক্টোবরে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা মাত্র ১৮ শতাংশ। আর ডিসেম্বরে তা বেড়ে প্রায় ৮০ শতাংশেদাঁড়িয়েছে।

সাধারণত সুদের হার বাড়লে সোনার আকর্ষণ কমে যায়। কারণ সোনা থেকে কোনো সুদ পাওয়া যায় না। ফলে সুদনির্ভর সম্পদের দিকে বিনিয়োগকারীদের ঝোঁক বাড়তে পারে।

এর পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। জ্বালানির উচ্চমূল্য, সরকারের বিপুল ঋণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে অতিরিক্ত বিনিয়োগের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা।