চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে জনাব মোহাম্মদ আব্দুল হালিম যোগদানের পর গত ১ মে ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ হতে ০৪ নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সময়ে থানা এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা বিধানে এক যুগান্তকারী সাফল্য অর্জিত হয়েছে। এই সময়কালে মাদক উদ্ধার, চোরাচালান প্রতিরোধ, চাঞ্চল্যকর খুন ও ডাকাতির রহস্য উদ্ঘাটন এবং বিভিন্ন চোরাই মালামাল উদ্ধারে পুলিশ ঈর্ষণীয় সাফল্য দেখিয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযান ও উদ্ধার:
মাদক নির্মূলের লক্ষে থানা এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। এই সময়ে মোট ১০৮টি মাদক মামলায় ১২৬ জন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে:
১,২৮,৮৯৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট।
৪৩৭ কেজি গাঁজা।
১০৯৬ লিটার চোলাই মদ।
১৬৭ বোতল বিদেশি মদ।
উল্লেখ্য, অনেক অভিযানে অফিসার ইনচার্জ নিজে উপস্থিত থেকে নেতৃত্ব দেন এবং নিজস্ব গুপ্তচর নিয়োগের মাধ্যমে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসব মাদক উদ্ধার করেন। এছাড়া মাদক নির্মূলে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিট পুলিশিং ও কমিউনিটি পুলিশিং সভা করে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়।
চোরাই মালামাল উদ্ধার ও চোর চক্র দমন:
তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা ও চেকপোস্ট পরিচালনার মাধ্যমে বিভিন্ন চুরির ঘটনার সফল সুরাহা করেছে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ। এই সময়ে উদ্ধারকৃত উল্লেখযোগ্য মালামালের মধ্যে রয়েছে:
১টি ড্রাম ট্রাক, ২টি সিএনজি অটোরিক্সা, ১টি পালসার ও ৪টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের চোরাই মোটরসাইকেল এবং ১টি দামি ইয়ামাহা মোটরসাইকেল।
১টি ইজিবাইক ও ১১টি চোরাই অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন।
১২ টন ১০০ কেজি লোহার রড ও ০৭ কেজি তামার তার।
ইকোনমিক জোনের ৮১ ফুট বা ২৫ মিটার মূল্যবান বৈদ্যুতিক ক্যাবল, ২টি পানির মোটর, ৩টি পাওয়ার সেল ইউপিএস ও ৩টি স্পার্ক ব্যাটারি।
১টি স্বর্ণের চেইন (৬ আনা ২ রতি ১ পয়েন্ট)।
চোরাচালান বিরোধী সফল অভিযান:
শুল্ক ফাঁকি দিয়ে পরিচালিত চোরাচালানের বিরুদ্ধে পরিচালিত ০৭টি সফল অভিযানে কোটি টাকার বেশি মূল্যের পণ্য ও যানবাহন জব্দ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে:
১৭,৫৫৫ কেজি প্লাস্টিক তৈরির কাঁচামাল (মূল্য প্রায় ৪৫ লাখ টাকা) ও ১টি কাভার্ড ভ্যান।
৪৮,৯৯৫ কেজি অ্যাসিড অয়েল ও ক্রুড গ্লিসারিন বহনকারী ২টি ট্রাক ট্যাংকার (মূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা)।
৩০১ বস্তা ইউরিয়া সারসহ ২টি ট্রাক।
বিপুল পরিমাণ হরলিক্স, নবরত্ন তেল, চকলেট, ১৮০ পিস ভারতীয় শাড়ি এবং ভারতীয় টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ চোরাচালানে ব্যবহৃত গাড়ি।
১৯টি ভারতীয় গরু ও ২টি পিকআপ গাড়ি।
অস্ত্র উদ্ধার ও চাঞ্চল্যকর অপরাধের রহস্য উদ্ঘাটন:
অস্ত্র উদ্ধার: ২ জন কুখ্যাত অস্ত্রধারীকে ১টি সেমি অটোমেটিক ৭.৬২ বিদেশি পিস্তল, ৯ রাউন্ড তাজা বুলেট, ১টি ফোল্ডিং সুইচ গিয়ার এবং দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
ডাকাতি রোধ ও উদ্ধার: ইকোনমিক জোনে ডাকাতির ঘটনার অতি অল্প সময়ে ওএসির নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ৭ জন ডাকাতকে গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত ১৫০ মিটার মূল্যবান বৈদ্যুতিক তার উদ্ধার করা হয়। এছাড়া গুপ্তচরের সংবাদের ভিত্তিতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ একাধিক ডাকাত ও ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
খুন মামলার রহস্য উদ্ঘাটন: ৪টি হত্যা মামলায় জড়িত ৬ জন পলাতক আসামিকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে আসামিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া পাহাড় ধসে মৃত্যু ও পারিবারিক কলহে গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় দ্রুত মামলা নিয়ে আসামিদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
সামগ্রিক গ্রেপ্তার ও কিশোর গ্যাং দমন:
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত মামলায় ২৩৬ জন, জিআর ওয়ারেন্টে ৭৫ জন, সিআর পরোয়ানায় ৮৬ জন এবং সাজাপ্রাপ্ত ২২ জনসহ মোট ৭২৩ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এর বাইরে অপরাধ নিবারণে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় ১৭৩ জন, ৫৪ ধারায় ৩ জন এবং পেনাল কোড ২৯০ ধারায় ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিশেষ অভিযানে ১৯২ জন কিশোর গ্যাং সদস্যকে আটক করে তাদের মধ্যে ৯৭ জনকে মুচলেকায় অভিভাবকের জিম্মায় এবং ৯৫ জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
জোরারগঞ্জ থানার পুলিশের এই ধারাবাহিক ও কঠোর পদক্ষেপে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে পুলিশের প্রতি আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

মন্তব্য করুন