
কুড়িগ্রামের পাঁচগাছি ইউনিয়নের ছত্রপুর মাস্টারপাড়া গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত সীমানা নিয়ে পূর্বশত্রুতার জেরে একটি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও প্রাণঘাতী আঘাতের অভিযোগে কুড়িগ্রাম সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
(মামলা নং- ১২, তারিখ- ১০/০৮/২০২৬) মামলার পরই তদন্তকারী কর্মকর্তার দ্রুত পদক্ষেপ ও অভিযানে অভিযুক্তদের ১ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
তবে মূল আসামি দুজন পলাতক রয়েছে।
মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বসতভিটার সীমানা নির্ধারণের জন্য গত (৭ আগস্ট) শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে স্থানীয়ভাবে গ্রাম্যসালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
সালিশ বৈঠক চলাকালীন সময়েই কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মামলার বাদী সিরাজুল ও তার পরিবারের লোকজনের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায় আব্দুল করিম গং।
লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে সিরাজুল গং-এর একাধিক সদস্যের মাথা ফেটে যাওয়া ও মুখমণ্ডলে আঘাত করলে সামনের কয়েকটি দাঁত ভেঙে যাওয়া সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম হয়।
এই হামলায় ছক্কর আলী ও শহিদুল ইসলাম নামের দুই ব্যক্তি মাথায় সবচেয়ে বেশি গুরুতর আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত জখম হন।
এছাড়াও নারীসহ একাধিক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়।
স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান।
এর মধ্যে গুরুতর আহত ছক্কর আলী এখনো রংপুর মেডিকেল হাসপাতালে রয়েছে।
এছাড়া আব্দুল করিমের নেতৃত্বে সিরাজুল গং এর বসতবাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় ১ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার পর থানায় লিখিত অভিযোগ জমা হলে কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ কামাল হোসেনের দিক নির্দেশনায় তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান সাব-ইনস্পেক্টর (এসআই) মোঃ আরিফুল হাসান।
দায়িত্ব পেয়েই এসআই আরিফ অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামিদের ১ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
পুলিশের এই সময়োপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি একটু নিয়ন্ত্রণে আসে।
এদিকে, ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে ঘটনার পর আইনি প্রক্রিয়াকে বিভ্রান্ত করতে অভিযুক্ত পক্ষ নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তৎপরতা শুরু করেছে।
মূল ঘটনা আড়াল করতে এবং ভুক্তভোগীদের ওপর পাল্টা চাপ সৃষ্টি করতে নিজেদের ঘরবাড়ি ভেঙে ক্ষতিসাধন ও কৌশলগতভাবে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ভুয়া আলামত তৈরির চেষ্টা চালানো হয়।
তবে নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক তদন্তের কারণে অভিযুক্তদের এই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনাটিতে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে তদন্তপূর্বক জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও সুষ্ঠু বিচারের জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুড়িগ্রাম সদর থানার এসআই আরিফুল হাসান জানান, মূলত ২ শতক জমির সীমানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বাদী পক্ষের ৫ জনের মধ্যে গুরুতর আহত ১ জন এখনো রংপুর মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এই ঘটনায় আসামিপক্ষের একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
এবং মূল আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
