
হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ছয়টি শর্ত দিয়েছে ইরান।
দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) সেক্রেটারি মোহাম্মদ বাকের জোলকাদর বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের আচরণ পরিবর্তন না করা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ খুলবে না।
শনিবার এক বার্তায় জোলকাদর বলেন, ‘যতদিন না আমেরিকা তাদের আচরণ সংশোধন করছে, ততদিন হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলা হবে না।’
হরমুজ প্রণালি খুলতে ইরানের দেওয়া শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইরানকে কোনো ধরনের হুমকি না দেওয়া এবং দেশটির জনগণকে অপমান না করা।
শাপাশি ইরান ও লেবানন, ফিলিস্তিন, ইয়েমেন ও ইরাকে তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও সামরিক আগ্রাসন স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।
ইরান আরও দাবি করেছে, দেশটির ওপর নৌ অবরোধ তুলে নিতে হবে এবং ইরানের আশপাশ থেকে মার্কিন নৌ ও বিমানবাহিনী প্রত্যাহার করতে হবে।
এ ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে চালানো দুই দফা ‘আগ্রাসনমূলক’ যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার শর্তও দিয়েছে তেহরান।
অন্য দুই শর্তের মধ্যে রয়েছে ইরানের ওপর আরোপিত ‘অন্যায় ও অবৈধ’ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং অবরুদ্ধ ও জব্দ করা ইরানি সম্পদ নিঃশর্তভাবে মুক্ত করে দেওয়া।
জোলকাদর বলেন, এসব দাবি ইরানি জনগণের।
রা দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধক্ষেত্র ও রাজপথে এসব দাবি জানিয়ে আসছে।
যুদ্ধ হোক কিংবা আলোচনা—কোনো পরিস্থিতিতেই সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল পিছু হটবে না বলেও জানান তিনি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক—সব উপায়ে সর্বোত্তম ফল নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন।
বে সংঘাত এখনো শেষ হয়নি বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
ইরানের এসব শর্তের বিষয়ে এখন পর্যন্ত হোয়াইট হাউসের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি।
এই জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে উত্তেজনা বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাজারে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
