
সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনের সম্ভাব্য তফসিল সামনে রেখে নগরীর রাজনৈতিক অঙ্গনে মেয়র পদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা জোরালো হচ্ছে। এ আলোচনায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সহ-স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামানের নামও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসছে। দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীদের একাংশের দাবি, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও সাংগঠনিক ভূমিকার কারণে এবার তাকে মেয়র পদে মনোনয়ন দেওয়া উচিত।
দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, সিলেটের রাজনীতিতে অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছেন। ২০১৩ সালের সিসিক নির্বাচনে তিনি সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী ছিলেন। তবে দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। একইভাবে ২০১৮ সালে সিলেট-৪ আসনে দলীয় মনোনয়ন পেলেও পরবর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিজে নির্বাচন না করে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন।
বিএনপির একাধিক নেতার দাবি, নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলীর পর সিলেটে দলকে সংগঠিত রাখতে অ্যাডভোকেট জামান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাদের মতে, তার নেতৃত্বে তৃণমূলের অনেক কর্মী পরবর্তীতে জেলা, মহানগর ও কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে দায়িত্ব পেয়েছেন।
দলীয় সূত্রগুলো আরও জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক মামলাসহ নানা চাপের মুখেও তিনি মাঠের রাজনীতি থেকে সরে যাননি। তাদের দাবি, তার বিরুদ্ধে ৮০টিরও বেশি মামলা হয়েছিল এবং বিভিন্ন সময় তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে। এছাড়া ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নিয়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হন বলেও নেতাকর্মীরা উল্লেখ করেন।
সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির কয়েকজন নেতা বলেন, ‘অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান সবসময় দলকে ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে রেখেছেন। বারবার ত্যাগ স্বীকার করেছেন। এবার তার রাজনৈতিক অবদানের মূল্যায়ন হওয়া উচিত।’
সিলেট মহানগর ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা বলেন, ‘চব্বিশের আন্দোলনে তিনি আমাদের সঙ্গে মাঠে ছিলেন। কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমরা চাই, দল তাকে সিসিক নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়ন বিবেচনা করুক।’
যুবদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর ভাষ্য, দলের কঠিন সময়ে অ্যাডভোকেট জামান সক্রিয় ছিলেন। তার সাংগঠনিক দক্ষতা ও জনপ্রিয়তার কারণে তৃণমূলে তাকে নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা রয়েছে।
নগরীর বন্দরবাজার এলাকার এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমরা এমন একজন জনপ্রতিনিধি চাই, যিনি নগরবাসীর সমস্যাগুলো বুঝবেন এবং উন্নয়নে কাজ করবেন। অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামানের নামও আলোচনায় রয়েছে।’
জাতীয় নির্বাচনের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামানকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা ও আলোচনা দেখা যাচ্ছে। তবে সিসিক নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন কাকে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে দলীয় হাইকমান্ড এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানায়নি। ফলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা চললেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছেন দলীয় নেতাকর্মী ও নগরবাসী।
