
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক স্ক্রল করতে করতে হঠাৎ থমকে যান চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন। স্ক্রিনে ভেসে ওঠে একদল তরুণের ঘাম ঝরানো স্বেচ্ছাশ্রম—মাইলের পর মাইল পলি আর আবর্জনায় ভরাট হয়ে যাওয়া একটি খাল পুনরুজ্জীবিত করার দৃশ্য। ফেসবুক লাইভে দেখা সেই অভাবনীয় উদ্যোগের দৃশ্য দেখে আর ঘরে বসে থাকতে পারেননি সংসদ সদস্য; সরাসরি ছুটে যান ঘটনাস্থলে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে তিনি উপজেলার মঘাদিয়া ইউনিয়নের গাজিটোলা এলাকার ‘আন্তছরা খাল’ পরিদর্শনে যান এবং নিজ চোখে প্রত্যক্ষ করেন কৃষকদলের এই ব্যতিক্রমী জনকল্যাণমূলক কাজ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের দখল, পলি আর বর্জ্যে আন্তছরা খালটি কার্যত মরে গিয়েছিল। বর্ষায় সামান্য বৃষ্টিতেই দেখা দিত জলাবদ্ধতা, আর শুষ্ক মৌসুমে দেখা দিত তীব্র সেচসংকট। ফলে মারাত্মক হুমকিতে পড়েছিল স্থানীয় আমন চাষসহ বিভিন্ন ফসলের ফলন। কৃষকদের বহুদিনের কষ্ট লাঘবে উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি মো. আশরাফ উদ্দিনের নেতৃত্বে মাঠে নামেন দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় যুবকেরা। সোমবার (২৭ জুলাই) থেকে শুরু হয়ে টানা দুই দিনের প্রখর রোদ উপেক্ষা করে প্রায় ২০ জন কর্মী-স্বেচ্ছাসেবকের প্রাণপণ পরিশ্রমে ইতোমধ্যে খালের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা পলি ও আবর্জনা মুক্ত করা হয়েছে।
উদ্যোগ সম্পর্কে উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, “সবকিছুর জন্য সরকারের দিকে মুখ চেয়ে না থেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে এলে যেকোনো সমস্যা দূর করা সম্ভব। আমরা সবাই যদি নিজ এলাকা পরিষ্কার রাখি এবং এক হয়ে কাজ করি, তবে জলাবদ্ধতামুক্ত মিরসরাই গড়ে তোলা সময়ের ব্যাপার মাত্র।”
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এমপি নুরুল আমিন এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “দেশনায়ক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আশরাফ উদ্দিনের নেতৃত্বে তরুণদের এই খাল খনন কর্মসূচি সত্যিই অনুকরণীয়। এ ধরনের উদ্যোগ কেবল জলবদ্ধতা দূর করে না, বরং সমাজের অন্যান্যদেরও জনকল্যাণে উদ্বুদ্ধ করে। সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো এমন মানবিক ও কর্মমুখী নেতৃত্বই আজকের দিনে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
জাহাঙ্গীর আলম বিশেষ প্রতিনিধি
