
ভারতের সিকিমের নামচি জেলায় একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গধসে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এখনও পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন। সুড়ঙ্গের ভেতরে মিথেন গ্যাস জমে থাকায় উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
সিকিমের নামচি জেলার সামারদুং এলাকায় এনএইচপিসির একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে ধসে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার পর এখনও পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), সেনাবাহিনী, রাজ্য পুলিশ, দমকল ও এনএইচপিসির বিশেষজ্ঞ দল যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।
প্রশাসন জানায়, সোমবার দুপুরে হঠাৎ ভূমিধসের কারণে সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখ ধসে পড়ে। এতে বহু শ্রমিক ও প্রকল্পকর্মী ভেতরে আটকা পড়েন। প্রাথমিকভাবে ১৬ জনকে উদ্ধার করা হলেও পরে জানা যায়, ধসের অপর প্রান্তে আরও ২৭ জন কর্মী আটকে ছিলেন। তাদের মধ্যে দুজন নিজ উদ্যোগে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন। বাকি পাঁচজনের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সিকিম প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ১৩ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে নয়জন পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার মেটেলি ও বিন্নাগুড়ি এলাকার, দুজন আলিপুরদুয়ারের, একজন পাঞ্জাবের এবং একজন সিকিমের বাসিন্দা। নিখোঁজদের মধ্যে কেরালার ৪৩ বছর বয়সী ভূতত্ত্ববিদ অনীশ মোহনও রয়েছেন।
উদ্ধারকাজে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সুড়ঙ্গের ভেতরে জমে থাকা মিথেন গ্যাস। প্রশাসনের প্রাথমিক ধারণা, গ্যাসের বিস্ফোরণের জেরেই সুড়ঙ্গে ধস নেমে থাকতে পারে। উদ্ধারকারীরা ভেতরে প্রবেশের সময় গ্যাসের প্রভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এছাড়া পুনরায় ধসের আশঙ্কা, পাথর ও কাদার স্তূপ এবং সংকীর্ণ পথ উদ্ধার অভিযানকে আরও জটিল করে তুলেছে। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ধাপে ধাপে ধ্বংসস্তূপ সরানো হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি নিহতদের প্রত্যেক পরিবারের জন্য ৪ লাখ রুপি আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছেন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে নিহতদের পরিবারকে ২ লাখ রুপি এবং আহতদের ৫০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এনএইচপিসি জানিয়েছে, আটকে পড়াদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ চলছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে বিস্তারিত তদন্ত করা হবে। এ ঘটনায় বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী।
