
কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান মাসুদের পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও ইউপি সচিবকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গতকাল সোমবার রাতে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ইউপি সচিব আবু হানিফ।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার সকাল ১০টার দিকে ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে।
কামরুজ্জামান মাসুদ ফতেহাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি দুধ দিয়ে গোসল করে আওয়ামী লীগ ছাড়ার ঘোষণা দেন। পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনায় রুবেল হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলায় তাঁকে আসামি করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশে সোমবার ফতেহাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে কামরুজ্জামান মাসুদের দায়িত্ব গ্রহণের কথা ছিল। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ইউপি কার্যালয়ের সামনে লোকজন জড়ো হন। একপর্যায়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, একদল ব্যক্তি ইউপি সচিব আবু হানিফের কক্ষে ঢুকে তাঁকে মারধর করেন এবং কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। পরে খবর পেয়ে দেবীদ্বার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত ইউপি সচিবকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর কামরুজ্জামান মাসুদ একাধিক মামলার আসামি হয়ে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ছুটিতে যান এবং ইউপি সদস্য মো. সালাউদ্দিন রুহুলকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
পরে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর কামরুজ্জামান মাসুদ বিভাগীয় কমিশনারের কাছে দায়িত্ব ফিরে পাওয়ার আবেদন করেন। এরপর তাঁকে পুনরায় চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের অনুমতি দেওয়া হয়।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সালাউদ্দিন রুহুল বলেন, প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় ইউপি কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সমর্থকেরা সচিবের কক্ষে ঢুকে তাঁকে মারধর করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে ইউপি সচিব আবু হানিফ রানা ও চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান মাসুদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, ইউপি সচিবের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্র পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছে।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই পুলিশ মোতায়েন ছিল। হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।