এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও ফ্রান্স দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর বাংলাদেশের অভাবনীয় উন্নয়নের প্রশংসা করেছেন ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসাও করেন ম্যাক্রোঁ।
দুই দিনের সফরের শেষ দিনে আজ সোমবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আসেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। নিজ কার্যালয়ের টাইগার গেটে তাঁকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এরপর উচ্চ পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেন দু’দেশের সরকার প্রধান। স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা হয়। এরপর একান্ত বৈঠক করেন শেখ হাসিনা ও ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। এ’সময় বঙ্গবন্ধু টু আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম ও আরবান গভর্নেন্স এন্ড ইনফাস্ট্রাকচার প্রোগাম শিরোনামে দুটি চুক্তি সই হয়।
পরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ফরাসী প্রেসিডেন্টের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। ফ্রান্স সরকার বাংলাদেশের জনগণের মৌলিক অধিকার ও সরকারের দায়িত্বশীল ও প্রতিশ্রুতিমূলক কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, ম্যাক্রোঁর এই সফরে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে আমরা কিছু সমঝোতায় পৌঁছাতেও সক্ষম হয়েছি। বাংলাদেশের বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ফ্রান্স আমাদের অবকাঠামগত উন্নয়নে তার সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে নিশ্চিত করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির অভাবনীয় ও ধারাবাহিক অগ্রযাত্রায় ফ্রান্স সরকারের আস্থার কথা দৃঢ়তার সঙ্গে উদ্ধৃত হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সুবিধা অব্যাহত রাখার মাধ্যমে রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়নে বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতির কথা পূণর্ব্যক্ত করেছে। এজন্য আমি রাষ্ট্রপতি ম্যাক্রোঁর নেতৃত্বে ফ্রান্স সরকার ও ফ্রান্সের জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, জীববৈচিত্র্য রক্ষা, বনায়ন, দারিদ্র বিমোচন ও শান্তি রক্ষায় একযোগে কাজ করতে হবে। যৌথ সংবাদ সম্মেলন শেষে সফররত প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁকে বিদায় জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
