ঢাকা
১৭ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম
মুহুরী নদীর পানি বাড়ছে হু হু করে: বাঁধ ভাঙার আশঙ্কায় নির্ঘুম ফেনীবাসী ​ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হচ্ছে যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা নুরুল ইসলামকে ঢাকার পাশে ঘন ঘন ভূমিকম্প: বড় বিপদের আগাম বার্তা যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সহ-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন সিলেটের মোহাম্মদ মাকসুদ আহমেদ তাহিরপুরে হত্যা করে লাশ গুমের ঘটনায় পলাতক আসামি নারায়ণগঞ্জে গ্রেফতার বিদ্যুৎ সাশ্রয় কর্মসূচি: ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিরল সূর্যগ্রহণে ইউরোপে উন্মাদনা হবিগঞ্জ কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় বিশাল ক্ষতিপূরণ পেতে যাচ্ছে ইরান চট্টগ্রাম শাহ আমানতে যৌথ অভিযান

ভারতীয় চোরাচালান সিন্ডিকেটের নেপথ্যে কে এই কামরুল?

বাংলাদেশ মিডিয়া প্রতিবেদক
বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬   ৫১ বার পঠিত
ভারতীয় চোরাচালান সিন্ডিকেটের নেপথ্যে কে এই কামরুল?

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় প্রায় ৯৭ লাখ ৩৩ হাজার ৭০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় চোরাচালানি জিরাসহ একটি ট্রাক জব্দ এবং পাঁচজনকে আটকের ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে সীমান্তভিত্তিক চোরাচালান সিন্ডিকেট| স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ একটি চক্র সীমান্তপথে ভারতীয় বিভিন্ন পণ্য দেশে প্রবেশ করিয়ে আসছে| এ ঘটনার পর ওই চক্রের নেপথ্যের মূল হোতা কে—তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে| স্থানীয়ভাবে আলোচিত নামগুলোর মধ্যে রয়েছে কামরুল হাসান রিয়াদ|

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ জুলাই রাত আনুমানিক ১১টা ৪০ মিনিটে পৃথক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বাহুবল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল ইসলামের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এসআই ইব্রাহিম আহমদ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে রাত্রিকালীন চেকপোস্ট ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন| অভিযানের একপর্যায়ে সন্দেহভাজন একটি ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চোরাচালানি জিরা উদ্ধার করা হয়| ঘটনাস্থল থেকেই ট্রাকের চালকসহ মোট পাঁচজনকে আটক করা হয় এবং ট্রাকটি জব্দ করা হয়|

পুলিশ জানায়, উদ্ধার করা ৩৩৩ বস্তা ভারতীয় জিরার মোট ওজন ৯ হাজার ৯৯০ কেজি| এসব জিরার আনুমানিক বাজারমূল্য ৭৪ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ টাকা| জব্দকৃত ট্রাকসহ উদ্ধার হওয়া মালামালের মূল্যও প্রায় ৯৭ লাখ ৩৩ হাজার ৭০০ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ| উদ্ধার হওয়া মালামাল ও জব্দকৃত ট্রাক থানায় নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে|

এ ঘটনায় আটক পাঁচজনের বিরুদ্ধে চোরাচালান আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে| প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বাহুবল মডেল থানা|

বাহুবল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “চোরাচালান, মাদক ও অন্যান্য অপরাধ দমনে বাহুবল থানা পুলিশের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে| সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে রাত্রিকালীন চেকপোস্ট কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারিও বৃদ্ধি করা হয়েছে|”

তিনি আরও বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ভাবিক রাখা এবং সীমান্তপথে অবৈধ পণ্য প্রবেশ রোধে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে| কোনো ব্যক্তি বা চক্র আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে|”

চোরাচালান প্রতিরোধে জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা করে ওসি বলেন, “কোনো ব্যক্তি বা চক্রের চোরাচালান কিংবা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য থাকলে তা গোপনীয়ভাবে পুলিশকে জানানোর জন্য সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি|”

এদিকে, বাহুবলে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় জিরা জব্দের ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে সীমান্তভিত্তিক চোরাচালান সিন্ডিকেট নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে| বিভিন্ন মহলের দাবি, সীমান্তজুড়ে সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করিয়ে আসছে| ওই চক্রের নেপথ্যে কারা রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কতটা কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে|

স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, এ চক্রের সঙ্গে কামরুল হাসান রিয়াদ নামে এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন মহলে আলোচিত| তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ নিশ্চিত করেনি|

অনুসন্ধানে স্থানীয় কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে, সিলেটের ছাতক উপজেলা এবং সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা দিয়ে ভারতীয় বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানি পণ্য দেশে প্রবেশের পেছনে কামরুল হাসান রিয়াদ নামে এক ব্যক্তি প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করছেন| স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তভিত্তিক একটি চোরাচালান নেটওয়ার্কের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন|

এ ছাড়া কিছু সূত্র অভিযোগ করেছে, সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী ৫৫ বিজিবির কিছু কর্মকর্তাকে প্রভাবিত বা “ম্যানেজ” করে তিনি একক আধিপত্য বিস্তার করেছেন| তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং সংশ্লিষ্ট বাহিনীর পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি|
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, বাহুবলে জিরা জব্দের ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়| বরং এর পেছনে বৃহত্তর চোরাচালান নেটওয়ার্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও গভীর তদন্ত প্রয়োজন| একই সঙ্গে সীমান্তপথে অবৈধ পণ্য প্রবেশে জড়িত প্রকৃত হোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা|

Facebook Comments Box
আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
SuMoTuWeThFrSa