
উত্তাল গভীর সমুদ্রে বিকল ইঞ্জিন, চারদিকে শুধু পানি আর মাথার ওপর তপ্ত রোদ। এভাবে টানা দুই দিন মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন ১৯ জন জেলে। অবশেষে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সময়োচিত ও সাহসী অভিযানে জীবিত উদ্ধার হলেন তারা।
আজ বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই শ্বাসরুদ্ধকর উদ্ধার অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নেটওয়ার্ক আসতেই মিলল মুক্তি
কোস্ট গার্ড জানায়, গত ৮ জুলাই নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে ‘এফবি মা-২’ নামের একটি ফিশিং বোট নিয়ে ১৯ জন জেলে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে গভীর সমুদ্রে রওনা হন। কিন্তু গত ১৩ জুলাই হঠাৎ বোটটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বোটটি উত্তাল সাগরে ভাসতে থাকে। টানা দুই দিন সাগরে ভাসমান অবস্থায় চরম খাদ্য ও পানির সংকটে পড়েন জেলেরা।
অবশেষে আজ বুধবার সকাল ১০টার দিকে বোটটি ভাসতে ভাসতে কোস্ট গার্ডের মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় আসে। তাৎক্ষণিকভাবে বোটের একজন জেলে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কোস্ট গার্ডকে তাদের বিপদের কথা জানান।
অপারেশন কুতুবদিয়া: খবর পাওয়ামাত্রই কোস্ট গার্ড স্টেশন ভাসানচর এবং সাগরে ‘অপারেশন সুরক্ষা’য় নিয়োজিত শক্তিশালী জাহাজ ‘বিসিজিএস কুতুবদিয়া’ দ্রুত উদ্ধার অভিযানে নামে। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় চট্টগ্রামের নরম্যান্স পয়েন্টের পশ্চিমে গভীর সমুদ্র এলাকা থেকে বিকল বোটসহ ১৯ জন জেলেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয় কোস্ট গার্ড।
ফিরল স্বস্তি
উদ্ধার করার পরপরই কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে পরিশ্রান্ত ও আতঙ্কিত জেলেদের জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় খাবার-পানি সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে বোটসহ জেলেদের তাদের মালিকপক্ষের কাছে হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সাগরে নিখোঁজ স্বজনদের জীবিত ফিরে পেয়ে জেলেদের পরিবারে এখন স্বস্তির জোয়ার বইছে। কোস্ট গার্ডের এই তাৎক্ষণিক ও মানবিক পদক্ষেপ আরও একবার সাগরে বিপদে পড়া মানুষের জন্য ভরসার|
জাহাঙ্গীর আলম বিশেষ প্রতিনিধি