যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে অবকাশ ও আতিথেয়তা খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির যে প্রত্যাশা ছিল, বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখা গেছে। দেশটির রেস্তোরাঁ, বার ও হোটেল খাতে জুন মাসে ৬১ হাজার কর্মসংস্থান কমেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসটিকস (বিএলএস) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জুনে দেশটিতে মোট নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে ৫৭ হাজার, যা বাজারের প্রত্যাশার তুলনায় কম। তবে বেকারত্বের হার সামান্য কমে ৪ দশমিক ২ শতাংশে নেমে এসেছে।
এর আগে মে মাসে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বার ও রেস্তোরাঁগুলো অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ শুরু করায় কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। এমনকি গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষকেরা জুন মাসে বিশ্বকাপের প্রভাবে প্রায় ৪০ হাজার অতিরিক্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
বহুজাতিক আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান আইএনজির প্রধান মার্কিন অর্থনীতিবিদ জেমস নাইটলি বলেন, জুনের কর্মসংস্থান প্রতিবেদনের সবচেয়ে দুর্বল দিক ছিল অবকাশ ও আতিথেয়তা খাত। তাঁর ভাষায়, বিশ্বকাপ চলাকালে বার ও বিভিন্ন ভেন্যুতে দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও এই খাতে কর্মসংস্থান কমে যাওয়া বিস্ময়কর। যদিও মে মাসে এ খাতে ৪৪ হাজার নতুন চাকরি সৃষ্টি হয়েছিল।
এদিকে সর্বশেষ কর্মসংস্থান প্রতিবেদনে এপ্রিল ও মে মাসের তথ্যও সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত হিসাবে দেখা গেছে, ওই দুই মাসে নতুন কর্মসংস্থানের সংখ্যা আগের হিসাবের তুলনায় ৭৪ হাজার কম ছিল। জেমস নাইটলির মতে, এতে বোঝা যায় গত কয়েক মাসে কর্মসংস্থানের যে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গিয়েছিল, তা হয়তো দীর্ঘমেয়াদি ধারার সূচনা নয়।
তিনি আরও বলেন, সর্বশেষ কর্মসংস্থানের তথ্যের কারণে চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা আরও কমে গেছে।
ওয়েলথ ক্লাবের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ সুসান্না স্ট্রিটার বলেন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি শ্লথ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ‘গোল্ডিলক্স’ পরিস্থিতি তৈরির সম্ভাবনা বেড়েছে। অর্থাৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান অব্যাহত থাকলেও মূল্যস্ফীতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে না, যাতে নীতি সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজন হয়। তাঁর মতে, বাজার এখন আগামী বছরে একবার সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।