কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত দেশের প্রথম টানেল প্রকল্পের দক্ষিণ প্রান্তে নির্মিত প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের বিলাসবহুল অতিথিশালা ও রেস্টহাউস দীর্ঘদিন ব্যবহৃত না হওয়ায় সেটি ২৯ বছরের জন্য বাণিজ্যিকভাবে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করেছে।
সেতু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আনোয়ারা উপজেলার সার্ভিস এরিয়ায় প্রায় পাঁচ হাজার বর্গফুট আয়তনের একটি ভিআইপি বাংলো এবং ৩০টি রেস্টহাউস নির্মাণ করা হয়। ছয়টি শয়নকক্ষ, সুইমিংপুলসহ আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এ স্থাপনাগুলোর নির্মাণকাজ প্রায় তিন বছর আগে শেষ হলেও জনবল সংকটসহ বিভিন্ন কারণে এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে প্রায় ১০ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কর্ণফুলী টানেলে যানবাহন চলাচল প্রত্যাশার তুলনায় কম হওয়ায় আয়ও লক্ষ্যমাত্রার নিচে রয়েছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টানেল চালুর পর থেকে চলতি বছরের ২৯ জুন পর্যন্ত টোল বাবদ মোট আয় হয়েছে প্রায় ১০৬ কোটি টাকা। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে টোল আদায় হচ্ছে প্রায় ১১ লাখ টাকা, অথচ পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ২৩ লাখ টাকা। ফলে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২ লাখ টাকা ঘাটতি থাকছে।
টানেলের সার্ভিস এরিয়ায় অতিথিশালা ছাড়াও সম্মেলনকেন্দ্র, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, হেলিপ্যাড, মসজিদ, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস স্টেশন এবং একটি জাদুঘর নির্মাণ করা হয়েছে। পুরো এলাকাজুড়ে আধুনিক অবকাঠামো ও বিভিন্ন সেবাসুবিধা সংযুক্ত রয়েছে।
অন্যদিকে, টানেলের সার্ভিস এরিয়া থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে পারকি সৈকত এলাকায় বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে প্রায় ৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি পর্যটন কমপ্লেক্স নির্মাণাধীন রয়েছে। প্রকল্পটির কাজ প্রায় ৮০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সৈয়দ রজব আলী বলেন, জনবল সংকটের কারণে অতিথিশালাটি চালু করা সম্ভব হয়নি। তাই সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এটি ২৯ বছরের জন্য বাণিজ্যিকভাবে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং আগামী ১৩ জুলাই দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠান অতিথিশালাটি পরিচালনার দায়িত্ব পাবে।