
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার দধিপুকুর গ্রামে বন বিভাগের জমি দখল করে নিজেদের নামে পর্চা করা এবং সরকারি বনের গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে মোজাফ্ফর গংয়ের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে দিনের পাশাপাশি রাতেও গাছ কাটার ঘটনা ঘটছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে বন বিভাগ। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ভবানীপুর বিটের আওতাধীন দধিপুকুর গ্রামে বন বিভাগের ৫৯৯ নম্বর দাগের পুকুর ও ৫০৭ নম্বর দাগের ১০ শতক জমি দখল করে মোজাফ্ফর রহমান নিজের নামে পর্চা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভবানীপুর বিট কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান। স্থানীয়দের দাবি, মোজাফ্ফর রহমান, মানিক, রুবেল ও মোতালেব হোসেন বন বিভাগের জমি দখলের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে বিক্রি করছেন। এমনকি স্থানীয় প্রায় ২২ জনের জমিও নিজেদের দাবি করে পর্চা করার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বন বিভাগের শালসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে। বর্তমানে কেটে নেওয়া কিছু গাছ মোজাফ্ফর রহমানের বাড়ির পাশে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে রাখা হয়েছে বলে দাবি তাদের। গাছ রক্ষায় কমিটি থাকলেও গাছ কাটার সময় কার্যকর কোনো ভূমিকা দেখা যায় না বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। এ ঘটনায় বিভিন্ন সময়ে মামলা হলেও গাছ কাটা ও বিক্রির অভিযোগ বন্ধ হয়নি।
অভিযুক্তদের মধ্যে মোতালেব হোসেন অভিযোগের বিষয়ে বলেন, ফরেস্টের জায়গার পাশে বাড়ি থাকায় এমন মামলা হয়ে থাকে। তার ভাই হয়তো কিছু ভুল করেছেন, বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছেন তারা। অন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
ভবানীপুর বিট কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, গাছ কাটার অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে মামলা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়ার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বন বিভাগের গাছ রক্ষা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ারুল হক বলেন, খোলা জায়গায় দু-একটি গাছ চুরি হতে পারে। তবে এর সঙ্গে বন বিভাগের কেউ জড়িত নন। বন পাহারা দিয়ে গাছ চুরি রোধ করাই তাদের দায়িত্ব।
বন বিভাগের জমি দখল, গাছ কেটে বিক্রি এবং স্থানীয়দের জমি নিজেদের নামে পর্চা করার অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
