
ফেনীর স্থানীয় শিক্ষার্থী ও কিশোরদের একটি বড় অংশ সন্ধ্যার পর পড়ার টেবিল ছেড়ে মেতে উঠছে উদ্দেশ্যহীন আড্ডায়। পাড়ার অলিগলি, রাস্তার মোড় কিংবা ভাসমান চা দোকানগুলোতে বাড়ছে কিশোরদের দীর্ঘ উপস্থিতি। এই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রবণতা থেকে শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনতে এবং তাদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক কঠোর ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফেনী জেলা প্রশাসন। এখন থেকে সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের চা দোকানে আড্ডা দেওয়া কিংবা অকারণে ঘোরাঘুরির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বিভিন্ন স্থানে উদ্দেশ্যহীনভাবে সময় কাটাচ্ছে। এতে করে তারা যেমন পড়াশোনা থেকে বিচ্যুত হচ্ছে, তেমনি জড়িয়ে পড়তে পারে নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও অপরাধের মতো ঝুঁকিতে।
এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং একটি শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে জেলা প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে— সন্ধ্যার পর কোনো শিক্ষার্থীকে চা দোকান, সড়ক কিংবা যেকোনো জনসমাগমস্থলে অপ্রয়োজনীয়ভাবে অবস্থান করতে দেওয়া হবে না। এই নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং আড্ডার প্রশ্রয়দাতা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চলবে নিয়মিত তদারকি:
নির্দেশনাটি মাঠপর্যায়ে কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জন্য জেলা প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট তদারকি কমিটি নিয়মিত মাঠে কাজ করবে। বিশেষ করে চা দোকান ও অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, যেন সন্ধ্যার পর কোনো শিক্ষার্থীকে দোকানে আড্ডার সুযোগ না দেওয়া হয়।
অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ তাগিদ:
জেলা প্রশাসন কেবল নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার তাগিদ দিয়েছে। সন্তানরা ঠিক সময়ে বাড়ি ফিরছে কি না, কার সাথে মিশছে— সে বিষয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, খেলাধুলা ও সৃজনশীল সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রাখতে পরিবারের ভূমিকা সবচেয়ে জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী এবং সচেতন নাগরিক সমাজের সম্মিলিত সহযোগিতায় ফেনী জেলাকে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপরায়ণ অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
জাহাঙ্গীর আলম বিশেষ প্রতিনিধি