
রাজশাহীতে ধর্ষণের শিকার সেই শিশুর ভর্তি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক (ডিসি)। তিনি রোববার বিকেলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে এ নির্দেশ দেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, ২০২০ সালের ২১ মার্চ প্রতিবেশী এক কিশোর শিশুটিকে ধর্ষণ করে। পরদিন এই ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করে। পরে ওই শিশুর মা-বাবা তাকে স্থানীয় একটি মাদরাসায় ভর্তি করান। কিন্তু কিছুদিন পর মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ধর্ষণের শিকারের বিষয়টি জানার পর শিশুটির ভর্তি বাতিল করে মাদরাসা থেকে বের করে গেট লাগিয়ে দেওয়া হয়। শিশুটি গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে তখন কাঁদছিল।
মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা মোহা. হাবিবুল্লাহ বলেন, যেসব অভিভাবকের আচরণ খারাপ, তাঁদের তাঁরা মাদ্রাসায় রাখেন না। তিনি বলেন, ধর্ষণের শিকার হওয়ার বিষয়টি তিনি পরে শুনেছেন। আসলে ওর মা-বাবার আচরণ খারাপ। এমন কথা বলে যে মাদ্রাসার পরিবেশ নষ্ট হয়। এ জন্য অন্যান্য অভিভাবক আপত্তি করেন। তাই শিশুটির ভর্তি বাতিল করা হয়েছে। পরে মাদ্রাসার পরিচালক তার মেয়েকে দূরে কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করে দিতে বলেন।
এদিকে ধর্ষণের শিকার শিশুটির পরিবারের সামাজিকভাবে হেনস্তা হওয়ার বিষয়টি নিয়ে শনিবার একটি দৈনিকে ‘ধর্ষণের শিকার শিশুর মাদরাসায় ভর্তি বাতিল’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বিষয়টি নজরে আসার পর রাজশাহী জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল শিশুটির ভর্তি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল বলেন, বিষয়টি তাঁর নজরে আসামাত্র তিনি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে ওই মাদরাসায় গিয়ে শিশুর ভর্তি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, বিষয়টি কেউ যদি এর আগেই তাঁদের নজরে নিয়ে আসতেন, তাহলে পত্র-পত্রিকায় খবর প্রকাশের আগেই স্থানীয়ভাবে তাঁরা ব্যবস্থা নিতে পারতেন।
ওই শিশুর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা শারীরিক প্রতিবন্ধী। নিজের কোনো ভিটেমাটি নেই। রেলের জমির বস্তিতে একটি ঘর করে বসবাস করেন। এক সড়ক দুর্ঘটনায় শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়ে গেলেও শিশুটির বাবা এখন অটোরিকশা চালান। একটি বেসরকারি হাসপাতালে আয়া হিসেবে চাকরি করেন শিশুর মা।
