ফুটবল মাঠের বাইরে এবার প্রকৃতির জগতেও অনন্য স্বীকৃতি পেলেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসি। পেরুর আন্দিজ পর্বতমালায় আবিষ্কৃত নতুন এক প্রজাতির ফুলের গাছের নাম রাখা হয়েছে তাঁর নামে। এর বৈজ্ঞানিক নাম ‘সালভিয়া মেসি’। এ নিয়ে ছয়টি প্রজাতির নামকরণ হলো মেসির নামে।

তুলসী ও পুদিনা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত এই উদ্ভিদটি পেরুর মধ্য ও দক্ষিণ আন্দিজ অঞ্চলের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় জন্মায়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৪০০ মিটার উচ্চতায় পাথুরে ও শুষ্ক ঢালে বেড়ে ওঠা গাছটির ফুলের রং হালকা নীল ও সাদা, যা আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকার রঙের সঙ্গে মিলে যায়। তবে সীমিত এলাকায় জন্মানোর কারণে উদ্ভিদটি বর্তমানে বিপন্ন।

গবেষক পল গনজালেসের নেতৃত্বে একটি দল নতুন প্রজাতিটি নিয়ে গবেষণা করেছে। গবেষণায় আর্জেন্টিনার গবেষক রোলান্দো উরিয়া এবং জীববিজ্ঞানী জঁ কাপচা-রামোসও যুক্ত ছিলেন।

মেসির নামে প্রজাতির নামকরণ অবশ্য নতুন নয়। ২০২৪ সালের মে মাসে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস তাঁকে এমন ফুটবলার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, যার নামে সবচেয়ে বেশি প্রজাতির নামকরণ হয়েছে। সে সময় তালিকায় ছিল পাঁচটি প্রজাতি। নতুন উদ্ভিদটি যুক্ত হওয়ায় সংখ্যাটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয়টিতে।

এর আগে মেসির নামে নামকরণ করা হয়েছে আর্জেন্টিনার এক প্রজাতির টিকটিকি ‘লিওলায়েমুস মেসি’, মাকড়সা ‘আকান্থোগোনাটাস মেসি’, প্রাগৈতিহাসিক সামুদ্রিক প্রাণী ‘ডিস্কনিস্কা মেসি’, প্রাচীন শকুনের জীবাশ্ম ‘ভালচার মেসি’ এবং ছত্রাক ‘সেরকোপেমসেস মেসি’।

মেসির নামে নতুন উদ্ভিদের নামকরণ যেমন তাঁর বিশ্বজোড়া পরিচিতির প্রতিফলন, তেমনি বিপন্ন প্রজাতিটির অস্তিত্ব রক্ষায় প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণের গুরুত্বও তুলে ধরছে।