দেশে সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন ও যানবাহনের সংখ্যা বাড়লেও দুর্ঘটনা এবং প্রাণহানি কমছে না। ২০১৮ সালে নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আট বছর পরও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরেনি। প্রতিদিনই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন শিশু, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১২ বছরে দেশে ৬৯ হাজার ৪৪৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯৫ হাজার ৭৬১ জন নিহত এবং ১ লাখ ৬৮ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। শুধু ২০২৫ সালেই ৬ হাজার ৭২৯টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৯ হাজার ১১১ জন।
অন্যদিকে, রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাবে, ২০২৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৭ হাজার ৩৫৯ জন। দুই সংগঠনের পরিসংখ্যানে পার্থক্য থাকলেও প্রাণহানির ব্যাপকতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
বেপরোয়া গতি, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক অবকাঠামো, চালকদের অদক্ষতা এবং দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। চালকদের নির্দিষ্ট বেতন ও কর্মঘণ্টা না থাকা এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতাও ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
দুর্ঘটনা কমাতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, চালকদের প্রশিক্ষণ, যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করা, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন অপসারণ এবং ট্রাফিক আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগের সুপারিশ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহনের জন্য পৃথক সড়ক নির্মাণ এবং পরিবহন খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।
সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ ছাড়া ২০২৭ সালের মধ্যে সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী।
তবে বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ ও সরকারি অঙ্গীকার বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে সড়কে প্রাণহানির এই ভয়াবহ পরিস্থিতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা।


মন্তব্য করুন